মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকের আগমন বাড়ছে, ২০২৬ সালে ৪৭ মিলিয়নের লক্ষ্য

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। দেশটির বুকিত বিনতাং, কুয়ালালামপুর টুইন টাওয়ার এবং ল্যাংকাউই সমুদ্রসৈকত এখন শুধু ইউরোপীয় ভ্রমণপ্রেমীরাই নয়, বাংলাদেশের পর্যটকদেরও প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

ঢাকার বাসিন্দা নাহিদা সুলতানা বলেন, “মালয়েশিয়া আমাদের কাছে খুব কাছের দেশ। পরিবার নিয়ে ভ্রমণ এখানে সহজ ও সাশ্রয়ী। শিশুদের জন্য থিম পার্ক, অ্যাকোয়ারিয়াম এবং ল্যাংকাউই দ্বীপ ভ্রমণ সত্যিই অবিস্মরণীয়।” আরেক বাংলাদেশি পর্যটক মিরাজ হোসেন বলেন, “এখানকার বাজারে দারুণ অফার থাকে। হালাল খাবার সহজলভ্য হওয়ায় আমাদের জন্য মালয়েশিয়ার আকর্ষণ আরও বেড়েছে।”

মালয়েশিয়া সরকার আগামী ২০২৬ সালে ৪৭ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক আনার লক্ষ্য স্থির করেছে। ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ প্রচারণার মাধ্যমে দেশটিকে বিশ্বের প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা চলছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি বলেন, “শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং, আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব এবং ইকোট্যুরিজম ও শপিং ট্যুরিজমের মতো খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে।”

২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ৩৮ মিলিয়ন পর্যটক আগমন করে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১.১% বৃদ্ধি। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক লাখ ভ্রমণকারী মালয়েশিয়ায় আসেন, যার মধ্যে অনেকেই পরিবারভিত্তিক ভ্রমণ এবং চিকিৎসা পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেন। বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, “ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে বাংলাদেশের পর্যটক সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া শীর্ষ পছন্দ।”

পর্যটন বিশেষজ্ঞ লিম কিম হক মনে করেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো মালয়েশিয়ার জন্য বড় বাজার। তিনি বলেন, “শুধু পর্যটন আকর্ষণ নয়, সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতা যদি আরও ফুটিয়ে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের আগমন আরও বৃদ্ধি পাবে।”

৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত তিন দিনের MATTA ফেয়ার ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ প্রচারণার আগাম স্বাদ দিয়েছে। তিন দিনের মেলায় প্রায় ১,৫০,০০০ দর্শনার্থীর পদচারণা হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী টিওং কিং সিং বলেন, “আমরা চাই মালয়েশিয়াকে টেকসই পর্যটন ও সংস্কৃতির অভিজ্ঞতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে। আজকের ভ্রমণকারীরা পরিবেশবান্ধব ও অর্থবহ অভিজ্ঞতা খোঁজেন।”

২০২৫ সালের প্রথমার্ধে আন্তর্জাতিক পর্যটন ১৭.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা বাজারে নতুন প্রাণ যোগাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। MATTA সভাপতি নাইজেল ওং বলেন, “নতুন উদ্ভাবন, বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ বিশ্বকে মুগ্ধ করবে।”

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালয়েশিয়া এখন কেবল ভ্রমণের নয়, কেনাকাটা, চিকিৎসা এবং পারিবারিক অবকাশযাপনের নিরাপদ ও সংস্কৃতিময় গন্তব্য হয়ে উঠছে। মালয়েশিয়া সরকার সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে।

Read Previous

ডিএমপিতে বদলির ঢেউ, নতুন দায়িত্বে পদায়ন পাঁচ কর্মকর্তা

Read Next

লোহিত সাগরে সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতির কারণে এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্যে ইন্টারনেট ব্যাঘাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular