
নিজস্ব প্রতিবেদক | পর্যটন সংবাদ: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের পুঁজিবাজার ইতিহাসে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের ৯৬৫তম সভায় আজ বুধবার (৩০ জুলাই) বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য অবাঞ্ছিত (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে তৎকালীন কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিএসইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিতর্কিত গ্রীন সুকুক ইস্যু ঘিরে অনিয়ম
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো) প্রস্তাবিত ৩ হাজার কোটি টাকার ৫ বছর মেয়াদি বেক্সিমকো সিকিউর্ড কনভার্টিবল অর রিডিমেবল অ্যাসেট-ব্যাকড গ্রীন সুকুক। এই সুকুক প্রস্তাবটি ২০২১ সালের ২৩ জুন বিএসইসির ৭৭৯তম সভায় অনুমোদিত হয়।
সুকুকটি ইস্যুর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বেক্সিমকোর টেক্সটাইল ইউনিট সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প—তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেডে বিনিয়োগের কথা ছিল। প্রতিটি সুকুক ইউনিটের মূল্য ছিল ১০০ টাকা এবং ন্যূনতম বিনিয়োগ ছিল ৫ হাজার টাকা।
গেজেট প্রকাশের আগেই অনুমোদন!
তবে তদন্তে উঠে আসে, প্রাসঙ্গিক বিধিমালা থেকে বেক্সিমকোকে যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, তা সরকারি গেজেটে প্রকাশের আগেই সুকুক অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনকি সাবসক্রিপশন সময়সীমা নিয়মবহির্ভূতভাবে বাড়ানো হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত।
এই অনিয়ম নিয়ে গঠিত ‘পুঁজিবাজার অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি’ তদন্ত শেষে তাদের রিপোর্ট কমিশনে জমা দেয়। এর ভিত্তিতেই বিএসইসি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
কারা ছিল সম্পৃক্ত?
এ সুকুক ইস্যুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল—
- অরিজিনেটর: বেক্সিমকো লিমিটেড
- ট্রাস্টি: ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (ICB)
- ইস্যু ম্যানেজার: সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস এবং অগ্রণী ইকুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট
- নিরীক্ষক: এম. জে. আবেদিন অ্যান্ড কো., চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস
- ক্রেডিট রেটিং: ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ECRL)
আরও ব্যবস্থা আসছে
শুধু ব্যক্তিগত শাস্তিই নয়, কমিশন জানিয়েছে, সুকুক ইস্যুকে ঘিরে যারা নিয়ম লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



