২৩/০৪/২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে ক্যামেরার ফাঁদে ধরা পড়ল চিতাবাঘ, পর্যটনে নতুন আগ্রহ

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি ধরা পড়েছে এক পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘের দুর্লভ ছবি। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই গভীর বনে প্রায় এক দশক পর ফের চিতাবাঘের দেখা মেলায় এলাকাটি নতুন করে পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স (সিসিএ) জানায়, চলতি মাসের ১৫ তারিখে চেক করা ক্যামেরা ট্র্যাপে এই চিতাবাঘের ছবি ধরা পড়ে। ২৫ জুন রাতে নিজেদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দিনের আলোয় একটি পরিপূর্ণ চিতাবাঘকে দেখা যায়।

সিসিএ’র ক্যামেরা ট্র্যাপিং প্রকল্পের দলনেতা সৌরভ চাকমা জানান, মূলত এশীয় কালো ভালুক ও সূর্য ভালুক শনাক্তের জন্য এই কার্যক্রম শুরু হলেও এবার প্রথমবারের মতো চিতাবাঘের এমন স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “আমরা জানতাম এ বনে চিতাবাঘ আছে। এবার তার ফটোগ্রাফিক প্রমাণও পেলাম।”

এ ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। সিসিএ’র সিইও শাহরিয়ার সিজার রহমান বলেন, “ছবিতে দেখা চিতাবাঘটি পূর্ণবয়স্ক এবং মাথা বেশ বড়। এটি পুরুষ হতে পারে, তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার, কারণ এটি প্রমাণ করে এখনও পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনে চিতাবাঘ বেঁচে আছে।”

চিতাবাঘের এ চিহ্নিতকরণ শুধুই সংরক্ষণের বিষয় নয়, এটি পর্যটনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এই বনাঞ্চলের আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলে ট্রেকিং, প্রাকৃতিক জীবন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণামূলক ভ্রমণের জন্য আগ্রহী অনেকেই ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নিচ্ছেন।

সিসিএ আরও জানায়, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বান্দরবানে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ ও ভালুক সংরক্ষণে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দুই দফায় ২০টি কচ্ছপ জঙ্গলে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৮৮০ সালে ৭৪ হাজার হেক্টর আয়তনের সাঙ্গু ও মাতামুহুরি বনাঞ্চলকে সরকার প্রথম সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেয়। কিন্তু বর্তমানে বনাঞ্চলটি চোরাকারবারিদের কারণে হুমকির মুখে। দিনদিন কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক বৃক্ষ ও প্রাণীর সংখ্যা।

এমন বাস্তবতায় চিতাবাঘের এ আবিষ্কার নতুন করে আশা জাগিয়েছে। স্থানীয়রা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও চিতাবাঘ ও অন্যান্য বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সরকার ও পরিবেশ সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

পর্যটকদের জন্য বার্তা:
এই গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু সংস্থা নয়, সচেতন পর্যটকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল ভ্রমণ নিশ্চিত করলেই টিকে থাকবে বাংলাদেশের গর্বের এই অরণ্যভূমি।

Read Previous

বলিউডের ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ শেফালী জারিওয়ালার অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া বিনোদন অঙ্গনে

Read Next

কর্ণফুলী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বিরল সাম্বার হরিণের মৃত্যু, পর্যটন প্রেমীদের মন খারাপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular