
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় দ্বীপ ফুকেট ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে পর্যটনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ফুকেটে আগত পর্যটকের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৪ লক্ষ, যা থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৪৯.৩৮ বিলিয়ন থাই বাত। তবে চীনা পর্যটকের আগমন হ্রাস পেলেও ভারত, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে পর্যটকসংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।
পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকের গড় দৈনিক আগমন ছিল প্রায় ১৭-১৮ হাজার, আর স্থানীয় থাই পর্যটক ছিল ৮-১০ হাজার। করোনোত্তর সময়ে এই প্রবণতা পর্যটনখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধার নির্দেশ করছে।
চীনা পর্যটক কমেছে প্রায় ৪৮%, যা ফুকেটের ঐতিহ্যগত বাজারে এক প্রকার ধাক্কা। তবে ভারত থেকে পর্যটক বেড়েছে ৫৯%, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২৫%, ইউরোপ ও রাশিয়া থেকেও ১০%-এর বেশি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
থাইল্যান্ড ট্যুরিজম অথরিটি (TAT) জানিয়েছে, চলতি বছর “নিউ মার্কেট, নিউ সেগমেন্টেশন” কৌশলের মাধ্যমে নতুন বাজার ধরতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য মূলত ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপ থেকে সংস্কৃতিবান্ধব ও সাসটেইনেবল পর্যটকদের আকৃষ্ট করা।
পর্যটকদের জন্য বিশেষ আয়োজন হিসেবে এ বছর আয়োজন করা হয়েছে “SUP র্যালি”, “Sip & Chill” লাইফস্টাইল অনুষ্ঠান এবং “ভেজিটারিয়ান ফেস্টিভ্যাল”। ফুকেটের সমুদ্রতট, প্রকৃতি ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে এসব ইভেন্ট উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
তবে পর্যটন প্রবাহের পাশাপাশি দ্বীপে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফুকেটের বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা মোকাবেলায় নতুন ইনসিনারেটর নির্মাণ ও প্লাস্টিক ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাময়িকভাবে সিমিলান ও সুরিন দ্বীপে পর্যটন বন্ধ রাখা হয়েছে অক্টোবর পর্যন্ত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Andaman International Airport) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী দুই বছরে চালু হওয়ার সম্ভাবনা। পাশাপাশি ফুকেটের জনপ্রিয় এলাকা মায়া বে ও পি-পি দ্বীপে ই-টিকিটিং চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: থাইল্যান্ড ট্যুরিজম অথরিটি (TAT), রয়টার্স, দ্য সান, বিজনেস ইনসাইডার, ওয়েল্ট ডট ডিই।
ছবি: ফুকেট ট্যুরিজম বোর্ড / রয়টার্স



