পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: মাত্র ৫৩ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এফসি পোর্তোর কিংবদন্তি অধিনায়ক জর্জ কস্তা। মৃত্যুকালে তিনি ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন।
পোর্তোর ট্রেইনিং সেন্টারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। তার অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল অঙ্গন এবং তার প্রাণের ক্লাব এফসি পোর্তো।
খেলোয়াড়ি জীবনে জর্জ কস্তা ছিলেন এক নিবেদিত প্রাণ ডিফেন্ডার। পোর্তোর হয়ে খেলেছেন ৩৮৩টি ম্যাচ এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন ৫০ বার। তার অধিনায়কত্বেই ২০০৩ সালে পোর্তো জেতে উয়েফা কাপ, আর ২০০৪ সালে জিতে নেয় ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা—উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেই সময় ক্লাবটির কোচ ছিলেন আরেক কিংবদন্তি, হোসে মরিনহো।
জর্জ কস্তার মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন মরিনহো। নেদারল্যান্ডসে একটি ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কস্তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, “জনাব, কান্না থামাও। কাল তোমার ম্যাচ আছে এবং ছেলেরা তোমাকে প্রস্তুত এবং শক্ত দেখতে চায়”—কস্তা যেন এখনো তাকে এই কথা বলছেন।
জর্জ কস্তা পোর্তোকে ৮ বার পর্তুগিজ লিগ জয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি একাধিক ক্লাবের কোচিং করান এবং ২০২৪ সালে ফেরেন পোর্তোতে, এইবার স্পোর্টস ডিরেক্টর হিসেবে।
এক আবেগঘন বিবৃতিতে পোর্তো লিখেছে,
“জর্জ কস্তা তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, মাঠের ভিতরে এবং বাইরে, ছিলেন পোর্তোর মূল্যবোধের প্রতীক। নিষ্ঠা, নেতৃত্ব, আবেগ এবং অদম্য জয়ের চেতনায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন আমাদের প্রেরণা। তিনি আমাদের হৃদয়ে চিরজীবী।”
কস্তা এখন আর নেই, কিন্তু তার স্মৃতি, নেতৃত্বগুণ এবং অবদান চিরদিন রয়ে যাবে পোর্তোর প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি সমর্থকের হৃদয়ে।



