
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিরল জনসমাবেশের দৃশ্যের সাক্ষী থাকলো ঢাকাবাসী। জামায়াতে ইসলামীর ডাকা ‘জাতীয় সমাবেশ ২০২৫’-কে ঘিরে উদ্যান ও এর আশপাশ যেন এক উৎসবমুখর জনমঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকেই সারাদেশ থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ উদ্যানমুখী হন, যারা দলীয় পরিচয়ের বাইরেও নগরজীবনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে নিজের চোখে দেখতে হাজির হয়েছেন ঐতিহাসিক এ উদ্যানে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যেটি একদিকে ঐতিহাসিক ভাষণ ও স্বাধীনতার স্মৃতিবহ, অন্যদিকে রাজধানীর সবুজ ও সাংস্কৃতিক নিঃশ্বাস হিসেবে পরিচিত—সেই স্থান আজ রূপ নিয়েছে মানবস্রোতের এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনীতে। শহরের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান—মতিঝিল, কমলাপুর, কারওয়ান বাজার, পলাশী, চানখার পুল প্রভৃতি এলাকাজুড়ে দেখা গেছে বাস-মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লোকজনের অবিরাম প্রবাহ।

উদ্যানজুড়ে সাংগঠনিক সৌন্দর্য
সকাল ৯টার আগেই সমাবেশস্থলের মূল মঞ্চ প্রস্তুত হয়, যার সামনে লাল কার্পেট, দুই পাশে অতিথি ও শহীদ পরিবারের আসন, এবং পুরো উদ্যানে ৩৩টি এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে যাতে প্রত্যেক আগত সরাসরি বক্তব্য উপভোগ করতে পারেন। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে তিন শতাধিক মাইক, অস্থায়ী টয়লেট, ওজুর স্থান, নামাজের জায়গা, খাবার পানি এবং মেডিকেল সহায়তা কেন্দ্র।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এমন সুবিন্যস্ত আয়োজন রাজধানীর বৃহৎ অনুষ্ঠানগুলোর স্মৃতি রিফ্রেশ করে। প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক সমাবেশ পরিচালনায় কাজ করেছেন, যেটা বড় আকারের কোনো সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক আয়োজনের ক্ষেত্রেও অনন্য।
মিছিল, পতাকা ও মানুষের ঢল: এক নতুন নগরদৃশ্য
উদ্যানে প্রবেশের সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে চলেছে স্লোগান ও সঙ্গীতমুখর মিছিল—’নারায়ে তাকবীর’, ‘জামায়াতে ইসলামী জিন্দাবাদ’, প্রতীকী দাঁড়িপাল্লা হাতে, কেউবা জাতীয় পতাকা ও গেঞ্জিতে দলীয় প্রতীক ধারণ করে। অনেক দর্শনার্থীর জন্য এ ছিল একধরনের ‘নগর প্যারেড’ দর্শনের সুযোগ—রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়াও এটি ছিল নগরের সাংস্কৃতিক দৃশ্যবিন্যাসের অংশ।

রাজনৈতিক সমাবেশ নাকি নগর পর্যটন?
যদিও এ আয়োজন একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সংগঠিত, তবে এর পরিবেশ, জনস্রোত, নগর ব্যবস্থাপনা, এবং একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষের সংগঠিত উপস্থিতি ঢাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক বিশেষ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষদের অভিজ্ঞতা ছিল অনেকটা ‘নগর-ভ্রমণ’-এর মতো। হবিগঞ্জ থেকে আসা সোহরাব খন্দকার জানান, “এই জনসমাবেশ শুধু দলীয় উদ্দেশ্য নয়, আমাদের সামনে ঢাকার রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক আবহকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। আমরা যেন এক ঐতিহাসিক দিনে ঢাকার জীবন্ত চিত্র দেখছি।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই আয়োজন রাজনীতির বাইরেও রাজধানীর সাময়িক ভিন্ন রূপের প্রতীক। নগরভিত্তিক সমাবেশ, সাংস্কৃতিক উপাদান, স্থানীয় খাবার, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এ আয়োজন পর্যটনের প্রেক্ষাপট থেকেও মূল্যায়নযোগ্য। ঢাকায় আগতদের জন্য এটি এক ব্যতিক্রমধর্মী ‘নগর অভিজ্ঞতা’, যা আগামী দিনগুলোতে স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে।
–পর্যটন সংবাদ প্রতিনিধি



