
সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং আ. লীগ সরকারের দোসর মো. আবদুল হামিদ বর্তমানে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. হারিত সুয়ানরাসমির তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আজ (১৩ মে) তার বায়োপসি (ক্যানসার শনাক্তকরণ পরীক্ষা) হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, এখনও আবদুল হামিদ হাসপাতালটিতে ভর্তি হননি। বাইরে থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে বায়োপসির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আজ কিংবা কালকের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হবার সম্ভাবনা রয়েছে । এর আগে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে পেট স্ক্যানও রয়েছে।
ব্যাংককের সুকুম্ভিত এলাকায় অবস্থান করলেও তিনি হোটেল না অ্যাপার্টমেন্টে আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ তুষার ও শ্যালক ডা. নওশাদ খান রয়েছেন।
ডা. নওশাদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতির ক্যানসার চিকিৎসা চলছিল। তার ডান ফুসফুসে একটি ছোট টিউমার রয়েছে, যেখান থেকে ক্যানসার ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও তার কিডনি সমস্যাও রয়েছে।’
ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের নয় মাস পর গত ৮ মে ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েন সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি ভোর ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে লাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা থাকায় তিনি কীভাবে দেশ ছাড়লেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। তাকে নিরাপদে ‘বিদেশে পালিয়ে যেতে’ সহায়তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সরকারের ভেতরেও নড়াচড়া শুরু হয় এবং বেশ কয়ে কজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে সরকার সাবেক রাষ্ট্রপতির দেশত্যাগ নিয়ে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।



