
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের আনা হয়েছে। তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তায় হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তবে ঠিক কতজনকে হাজির করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
সেনা সদর সূত্রে জানা গেছে, মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা এই তিন মামলার আসামি, যাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে আছেন।
রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন ও পল্টন এলাকায় সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ, হাইকোর্টের মাজারগেট এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরের দিন আগেই নির্ধারিত ছিল বুধবার। তারা হাজির না হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতো। হাজির হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষ।
প্রসিকিউশনের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযোগ আমলে নেওয়া ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আজকের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ দেয়।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন তিনটি পৃথক মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়।
- প্রথম মামলায়, টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
- দ্বিতীয় মামলায়, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের অভিযোগে হাসিনা ও তারিকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
- তৃতীয় মামলায়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
সব মিলিয়ে তিন মামলায় মোট ৩৪ জন আসামি, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সবচেয়ে আলোচিত।



