
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শ্রাবণের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। কখনও পাহাড় হারিয়ে যাচ্ছে মেঘের আঁচলে, কখনও ঝর্ণার কলকল ধ্বনি ছুঁয়ে যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের মন। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও পাহাড় এখন এমনই এক জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে, যেখানে বর্ষার মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভিড় জমে।
পাহাড়ি ঝর্ণায় গোসল আর সীমান্তঘেঁষা চন্দ্রডিঙ্গা ছড়ার টানে প্রতিদিন শত শত মানুষ ছুটে আসছেন। তবে প্রকৃতির টানে অনেকেই ভুল করে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করছেন—এমন দৃশ্য ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাঁচগাঁওয়ের ঝর্ণাগুলো সীমান্ত রেখার একেবারেই কাছাকাছি। ফলে কৌতূহল কিংবা অজান্তে পর্যটকরা শূন্যরেখা পেরিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে, চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, “প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ পাহাড় ও ঝর্ণা দেখতে আসেন। আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। কিন্তু বারবার সতর্ক করার পরও অনেকে সীমান্তের দিকে চলে যান।”
নেত্রকোনার সীমান্ত অঞ্চলটি সোমেশ্বরী নদী, সাদামাটির পাহাড়, পাতলাবন, মহাদেব নদ ও লেঙ্গুরার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। তবে সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। চন্দ্রডিঙ্গা রিসোর্ট এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ, পর্যাপ্ত রেস্ট হাউস নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল। ফলে পর্যটনের সম্ভাবনা থাকলেও উন্নয়ন এগোয়নি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, “আমি যোগদানের পর থেকেই সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছি। বন্ধ রেস্ট হাউস দ্রুত চালু করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও পর্যটকদের জন্য সুবিধা বাড়ানো হবে।”
পর্যটকদের দাবি, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পাঁচগাঁও পাহাড় এবং আশপাশের স্থানগুলো দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।



