
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, সেটিকে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দাবি—এ রায় ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি প্রক্রিয়ার ফল।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় এমন এক ট্রাইব্যুনাল থেকে এসেছে, যার neither গণতান্ত্রিক ভিত্তি আছে, nor স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো কাঠামো। তার ভাষায়, ট্রাইব্যুনালটি “অনির্বাচিত সরকারের প্রতিষ্ঠিত এবং কারচুপিযুক্ত”—যেখানে পক্ষপাতদুষ্টতা স্পষ্ট।
হাসিনার অভিযোগ, মামলাটি যেভাবে পরিচালিত হয়েছে তাতে শক্ত প্রমাণ পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, যেখানে প্রমাণের ন্যায্যতা যাচাই করা সম্ভব এবং বিচারকাজ স্বাধীন থাকে, এমন কোনো আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনালে তিনি অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
ট্রাইব্যুনালের রায় কী বলছে
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ তাদের রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল দুইটি অভিযোগের মধ্যে দ্বিতীয়টিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। প্রথম অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে সহযোগিতা করায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী মামুন পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কীভাবে এগোবে
রায় ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রায়টি নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি জুলাই আন্দোলনের ঘটনার পুরো ধারাকে নতুনভাবে আলোচনায় এনে দিয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তিনি এই রায়কে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। এখন নজর থাকবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে কী ধরনের আলোচনার জন্ম হয়।



