
ফাইল ছবি: বাংলাদেশ বিমান
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক হ্রাসের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিমান, খাদ্যশস্য এবং প্রকাশনা খাতে মার্কিন পণ্যের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য বিষয়ক সিনিয়র কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
তিনি জানান, “আমাদের বিমানের বহরে বেশিরভাগ উড়োজাহাজই মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের। আমরা বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও কিছু উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি।”
বিমানের বহরে নতুন বোয়িং যুক্ত করার সম্ভাবনা থাকায় দেশের পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অধিকতর আধুনিক ও বড় উড়োজাহাজ এলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা ও গন্তব্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, যার ফলে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে।
সরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য এবং তুলা আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রকাশনা খাত থেকেও পণ্য সংগ্রহের বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে।
তবে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে সরকার এখনই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মাহবুবুর রহমান।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত বাড়তি শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানির ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, যা খাতটিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
শুল্ক ইস্যুতে আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—গম, সয়াবিন, এয়ারক্রাফট ও মেশিনারি আমদানিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, বিনিময়ে রপ্তানিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হোক।
আগামী ১০ ও ১১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশ অংশ নেবে, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন মাহবুবুর রহমান।



