১২/০৫/২০২৬
২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেধাবীদের জন্য পাইলট হওয়ার দরজা খুলছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

ছবি: ঢাকা পোস্ট থেকে নেয়া

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যে দেশে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথে সরকারিভাবে নানা সহায়তা থাকে, সেখানে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন অনেক সময়ই অর্থের অভাবে থেমে যায়। মেধা থাকলেও সুযোগ না থাকলে আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে দূরের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে এসেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। তারা মেধাবীদের জন্য নিজস্ব খরচে ক্যাডেট পাইলট তৈরির উদ্যোগ নিয়ে দেশের বিমানসেবাখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

ইউএস-বাংলা প্রায় ১২ বছরের অপারেশনে দেশের আকাশপথে অন্যতম শক্তিশালী বেসরকারি এয়ারলাইন্সে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সালে মাত্র দুইটি ড্যাশ-৮-কিউ৪০০ নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বহরে এখন ২৫টি এয়ারক্রাফট। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ৪৩৬ আসনের এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ ও নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। খুব শিগগিরই বহরে আরও নতুন উড়োজাহাজ যোগ হওয়ার কথা—যার মানে অতিরিক্ত পাইলটের চাহিদা আরও বাড়ছে।

এটাই মূল কারণ, বিশ্বের বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের মতো ইউএস-বাংলাও পাইলট সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পিত পথ বেছে নিয়েছে। তাদের কৌশল সরল: দেশের মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ পাইলটে পরিণত করা। ২০২২ সালে প্রথম ব্যাচ থেকে নির্বাচিত ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এপিক ফ্লাইট একাডেমিতে কোর্স শেষ করে ইতোমধ্যে ইউএস-বাংলার পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আরও কয়েকজন প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পথে। এতে একটা বিষয় পরিষ্কার—তারা কাগজে-কলমে ঘোষণা দিয়ে থেমে নেই; কাজটা বাস্তবেই চলছে।

এবার নতুন ব্যাচের জন্য আবেদন নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। যোগ্যতার মাপকাঠি বেশ নির্দিষ্ট। যারা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে—বিশেষ করে পদার্থ, গণিত ও ইংরেজিতে উল্লেখযোগ্য ফলাফল—তারা আবেদন করতে পারবে। ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীর জন্যও আলাদা মানদণ্ড আছে। জিইডি গ্রহণযোগ্য নয়, তাই প্রথাগত শিক্ষাপদ্ধতির মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়াটা কঠিন, কিন্তু স্বচ্ছ। বাছাইয়ের প্রতিটি ধাপ—আইকিউ, লিখিত, পাইলট অ্যাপ্টিটিউড, সাইকোমেট্রিক, মেডিকেল, মৌখিক—সব মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে নির্বাচিত কেউই কেবল মেধাবী নয়, আকাশপথের দায়িত্ব সামলানোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। সব পরীক্ষা পেরোলে ইউএস-বাংলা বিশ্বের যেকোনো দেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, পুরো অর্থের দায়িত্বও তারাই নেবে। প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়া যাবে এফএএ অনুমোদিত কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL), এরপরই ফার্স্ট অফিসার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু।

যোগ্যতা নিয়ে কিছু কঠোর শর্তও আছে। বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে হতে হবে, উচ্চতা-ওজন বিএমআই মান অনুযায়ী, দৃষ্টিশক্তি ৬/৬, প্রার্থী অবশ্যই অধুমপায়ী এবং অ্যালকোহলমুক্ত হতে হবে। কোনো অপরাধজনিত রেকর্ড থাকলে সেটি সরাসরি অযোগ্যতার কারণ। এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক, অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ক্লাস-১ মেডিকেল সার্টিফিকেটও থাকতে হবে।

ইউএস-বাংলা নিজের নিয়ম–নীতি সময়ে সময়ে পরিবর্তনের অধিকার রাখলেও মূল উদ্দেশ্য একই থাকে—দেশের মধ্যেই দক্ষ এভিয়েশন মানবসম্পদ তৈরি করা। এই পথটা শুধু কোনো এয়ারলাইন্সের মানবসম্পদ পূরণ নয়; দেশের তরুণদের আকাশচুম্বী স্বপ্ন বাস্তব করার সুযোগ তৈরি করা।

আবেদন করতে আগ্রহীরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটে (usbair.com/career/student-pilot) যেতে পারবেন। আবেদন করা যাবে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

আকাশে উড়তে চাওয়া তরুণদের জন্য এটিই এখন সবচেয়ে বাস্তব, সবচেয়ে বড় সুযোগ। এনিয়ে সন্দেহ নেই—একজন মেধাবী তরুণের স্বপ্ন আর তার হাতের নাগালের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, ইউএস-বাংলা সেটাকে কয়েক ধাপ কমিয়ে আনছে।

Read Previous

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দ্বিতীয় দিনের সংলাপে ৬ দলের অংশগ্রহণ

Read Next

অনলাইন টিকিট প্রতারণা বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular