২০২৩-২৫ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চলমান সাইকেলে মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড কৃতিত্ব যেন এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে তাঁকে। ব্যাট হাতে ৫৪৪ রান এবং বল হাতে ৩৪ উইকেটের অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছেন মিরাজ। এই পরিসংখ্যানের আলোকে তিনি এই ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়ন সাইকেলে একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি ৫০০+ রান এবং ৩০+ উইকেটের বিরল অর্জনটি করতে পেরেছেন।
শুধু তাই নয়, এই সাইকেলে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী – দুটোই মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই সাইকেলে ৫০০ এর বেশি রান করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় মিরাজের পরেই আছেন জো রুট, যার ব্যাট থেকে এসেছে ১৩০০ রান, তবে তিনি মাত্র ১০ উইকেট নিতে পেরেছেন। আবার, ৩০ এর বেশি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মাঝে রবীন্দ্র জাদেজা ৩৩১ রান ও ৩১ উইকেট নিয়ে মিরাজের সাফল্যের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী।
ভারতের আরেক অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও তার অনন্য প্রতিভার ছাপ রেখে চলেছেন ২৫৩ রান এবং ৩৯ উইকেটের মাধ্যমে। ইংল্যান্ডের গাস অ্যাটকিনসন ২০৪ রান এবং ৩৮ উইকেট নিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায়।
ডব্লিউটিসি সাইকেলে এর আগে মাত্র দুজন ক্রিকেটার এই ধরনের অর্জন করেছিলেন। বেন স্টোকস ২০১৯-২১ চক্রে ১৩৩৪ রান এবং ৩৪ উইকেটের পাশাপাশি ২০২১-২৩ চক্রেও ৯৭১ রান এবং ৩০ উইকেট নিয়ে দাপট দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, রাবিন্দ্র জাদেজা ২০২১-২৩ সাইকেলে ৭২১ রান এবং ৪৭ উইকেট নিয়ে ছিলেন অন্যতম সেরা। মিরাজ সেই ধারাবাহিকতায় নিজের নামটি সযত্নে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার ফলে তাঁকে বলা যেতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ভরতা।
চলমান ২০২৩-২৫ সাইকেলে মিরাজ ১৬ ইনিংসে মাত্র ২৯ গড়ে এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ৩৪ উইকেট, যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের হয়ে এই সাইকেলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় দুইয়ে ও তিনে আছেন তাইজুল ইসলাম (২৪) ও হাসান মাহমুদ (২৩)। অন্যদিকে ১৬ ইনিংসে মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ৪০ এর বেশি গড়ে ৫৪৪ রান। দুইয়ে থাকা মুমিনুলের রান ৪৭৮, তিনে থাকা মুশফিকের রান ৪৫২। তাই বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই সাইকেলে ৩০ উইকেট নেওয়া বোলারটার নামও মিরাজ, ৫০০ রান করা ব্যাটারটার নামও মিরাজ। আর বিশ্বক্রিকেটে চলমান সাইকেলে ৫০০ রান ও ৩০ উইকেট এই দ্বৈত রেকর্ডের প্রথম অংশীদার এই মিরাজই।
বাংলাদেশের জন্য মিরাজের এমন উত্থান যেন একটি আশীর্বাদ। একসময়ের প্রতিশ্রুতিশীল স্পিনার এখন নিজেকে বিশ্বমানের অলরাউন্ডারে পরিণত করছেন, যাঁর ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় দিকেই সমান পারদর্শিতা। তাঁর অর্জনগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে একজন সত্যিকারের অলরাউন্ডার উঠে এসেছে, যিনি দলকে বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম।



