
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ফুটবল কিংবদন্তিদের দেশ, সাম্বা নাচের উৎসব রিও কার্নিভাল, আর সবুজে ঘেরা অ্যামাজন অরণ্য — ব্রাজিল এখন অনেক বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীর স্বপ্নের গন্তব্য। তবে সেখানে যেতে হলে প্রথম ধাপ হলো সঠিকভাবে ভিসার আবেদন করা। নিচে ধাপে ধাপে ব্রাজিল ভ্রমণ ভিসার সম্পূর্ণ নির্দেশনা বাংলায় তুলে ধরা হলো।
ব্রাজিল ভিসা কোথায় জমা দিতে হয়?
বাংলাদেশে ব্রাজিলের কোনো দূতাবাস নেই।
তাই ভিসার জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ব্রাজিল দূতাবাসে আবেদন করতে হয়।
ব্রাজিল দূতাবাস, নয়াদিল্লি, ভারত
- ঠিকানা: ৮-এ, চানক্যপুরী, নয়াদিল্লি – ১১০০২১, ভারত
- ওয়েবসাইট: www.gov.br/mre/en
- ইমেইল (ভিসা বিভাগ): visa.newdelhi@itamaraty.gov.br
দুইভাবে আবেদন করা যায়:
১ সরাসরি গিয়ে (এর জন্য আগে ভারত ভিসা নিতে হবে)
২️ অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে ডকুমেন্ট পাঠিয়ে
ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসমূহ
১. পাসপোর্ট — কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ থাকতে হবে
২. অনলাইন ভিসা ফরম — পূরণ করে প্রিন্ট নিতে হবে
৩. ছবি — সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, আকার ৩.৫ x ৪.৫ সেমি (দুই কপি)
৪. কভার লেটার — কেন যেতে চান, ভ্রমণ পরিকল্পনা উল্লেখ করে
৫. ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ছয় মাস) — কমপক্ষে সাত থেকে দশ লক্ষ টাকা সমপরিমাণ ব্যালেন্স থাকতে হবে
৬. ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
৭. ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (দুই বা তিন বছর)
৮. হোটেল বুকিং ও রিটার্ন এয়ার টিকেট রিজার্ভেশন কনফার্মেশন
৯. ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স — অন্তত ত্রিশ হাজার ইউরো কভারেজ
১০. চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি / ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স
১১. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ
১২. আগের বিদেশ ভ্রমণের প্রমাণ — যেমন শেঙ্গেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা যুক্তরাজ্যের ভিসা থাকলে সুবিধা হয়
১৩. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট — কখনও কখনও লাগতে পারে
১৪. ইয়েলো ফিভার টিকার সনদপত্র — ব্রাজিলে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক
ভিসা ফি ও আনুমানিক খরচ
| খরচের ধরন | আনুমানিক পরিমাণ |
|---|---|
| ভিসা ফি | প্রায় ১০০ থেকে ১২০ ডলার |
| এজেন্সি সার্ভিস চার্জ (যদি ব্যবহার করেন) | প্রায় ৩০ থেকে ৬০ ডলার |
| কুরিয়ার খরচ | প্রায় ২০ থেকে ৩০ ডলার |
মনে রাখবেন — ভিসা ফি ফেরত পাওয়া যায় না।
প্রসেসিং সময়
- সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস
- ব্যস্ত মৌসুম বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে
আবেদনের ধাপসংক্ষেপ
১️ অনলাইনে ফরম পূরণ করে প্রিন্ট নিন
২️ সব ডকুমেন্ট ঠিকভাবে ফাইল করুন
৩️ ইমেইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে এম্বাসিতে যোগাযোগ করুন
৪️ ফি পরিশোধ করে ডকুমেন্ট জমা দিন
৫️ প্রয়োজনে ইন্টারভিউ বা কনফার্মেশন কল হতে পারে
৬️ ইমেইলে রেজাল্ট জানানো হয়
৭️ পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন বা কুরিয়ারে রিসিভ করুন
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
- ইয়েলো ফিভার টিকাসনদ ছাড়া ব্রাজিলে বিমানে নামতে দেওয়া হয় না
- ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় অংকের টাকা জমা দেবেন না
- কভার লেটারে যদি উল্লেখ করেন — রিও কার্নিভাল, সাম্বা সংস্কৃতি ভ্রমণ, অ্যামাজন রেইনফরেস্ট ট্রিপ বা ফুটবল ট্যুর, তাহলে ভ্রমণের উদ্দেশ্য আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়
- সম্ভব হলে সব ডকুমেন্ট ইংরেজি বা পর্তুগিজে অনুবাদ করে নোটারি করুন



