
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত ঝরঝরি ট্রেইল আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পট। যারা প্রকৃতি আর রোমাঞ্চ একসাথে খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য এই ঝর্ণাপথ যেন এক স্বপ্নের নাম।
প্রকৃতির সৌন্দর্য
ঝরঝরি ট্রেইল শুরু হয় পন্থিছিলা বাজার থেকে। প্রথমে সরু ঝিরিপথ, সবুজে ঘেরা পাহাড়ি গাছপালা আর পাখির কলরব ভ্রমণকারীদের স্বাগত জানায়। প্রায় আধঘণ্টার পথ চলার পর প্রথম ঝর্ণার গর্জন কানে আসে। ধাপে ধাপে উপরের দিকে উঠলে একের পর এক ঝর্ণা চোখে ধরা দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো “স্বর্গের সিঁড়ি”—যেখানে ছোট ছোট ধাপে সাজানো জলপ্রপাতের সারি। আরেকটি বিশেষ জায়গা হলো “মূর্তি ঝর্ণা”, যেখানে পানির নিচে মানুষের মাথার মতো দেখতে পাথরের গঠন পাওয়া যায়। পুরো ট্রেইল শেষ করতে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রামগামী বাসে উঠতে হবে।
- নন-এসি বাস ভাড়া ৩০০–৫৫০ টাকা,
- এসি বাস ভাড়া ৮০০–১০০০ টাকা।
চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতাকুন্ডের পন্থিছিলা বাজারে যেতে স্থানীয় বাস বা সিএনজি ব্যবহার করা যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় ঝরঝরি ট্রেইল।
খরচের হিসাব
- ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা–যাওয়া: ৬০০–২০০০ টাকা (বাসভেদে)
- চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুন্ড লোকাল যাতায়াত: ১০০–২০০ টাকা
- গাইড ফি: ৩০০–৪০০ টাকা
- খাবার: ১২০–২০০ টাকা
- হোটেল ভাড়া: ৮০০–১৬০০ টাকা (সীতাকুন্ড বা চট্টগ্রামে)
মোট খরচ আনুমানিক ২৫০০–৪০০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব।
থাকার ব্যবস্থা
সীতাকুন্ডে কিছু সাধারণ হোটেল রয়েছে, যেমন হোটেল সৌদিয়া, যেখানে রুম ভাড়া ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা। চাইলে চট্টগ্রাম শহরের হোটেলগুলোতেও থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে যাতায়াতে বাড়তি সময় লাগবে।
ভ্রমণ পরামর্শ
- ভালো গ্রিপের ট্রেকিং জুতো ব্যবহার করুন, কারণ পথে পিচ্ছিল জায়গা বেশি।
- বর্ষাকালে ঝর্ণার প্রবাহ বাড়ে, তাই অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
- জোঁক ও পোকামাকড়ের উপদ্রব এড়াতে ইনসেক্ট রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
- গ্রুপে ভ্রমণ করা নিরাপদ।
- পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন।
ঝরঝরি শুধু একটি ঝর্ণা নয়, বরং পুরো একটি ট্রেইল যেখানে প্রতিটি ধাপে অপেক্ষা করছে নতুন চমক। “স্বর্গের সিঁড়ি” আর “মূর্তি ঝর্ণা”র মতো আকর্ষণীয় জায়গা একে করেছে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিশেষ গন্তব্য। পাহাড়ি সবুজ, ঝিরির স্রোত আর প্রকৃতির অদ্ভুত টানে ঝরঝরি ভ্রমণ হয়ে উঠবে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।



