ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেটে পর্যটন উৎসবের আমেজ: ১০ লাখ পর্যটকের সমাগমের আশা, হোটেল বুকিং ৮৫% সম্পন্ন

সিলেটে রাত ৯:৩০টার পর সব বাণিজ্যিক দোকান বন্ধ থাকবে: যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নতুন উদ্যোগ 

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সিলেট এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সাম্প্রতিক বৃষ্টির ছোঁয়ায় সবুজ চা-বাগান, ঝরনা, পাহাড়ি ঝর্ণা ও স্বচ্ছ পাথরের নদীগুলো যেন নতুন করে সেজে উঠেছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে শুষ্ক হয়ে যাওয়া চা-বাগানগুলোতে সবুজের আবার প্রাণ ফিরে এসেছে, ঝরনাগুলো প্রবল বেগে নেমে আসছে এবং পাথরের নদীতে স্বচ্ছ জলের মায়াবী খেলা শুরু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঈদের ছুটিতে লাখো ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সিলেটের আবাসিক হোটেল-মোটেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ রুম ইতিমধ্যে বুক হয়ে গেছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, “দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্যটন খাত কিছুটা স্থবির ছিল। কিন্তু এবারের ঈদের ছুটিতে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে। আমরা আশা করছি, সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। এতে পর্যটন খাতে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও জানান, হোটেল-মোটেলের পাশাপাশি রিসোর্ট ও লোকাল গাইডরাও পর্যটক বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সিলেটের প্রধান পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, উৎমা ছড়া, তুরুং ছড়া, জৈন্তাপুরের লালাখাল, পান্তুমাই ঝরনা এবং নগরীর আশপাশের চা-বাগানগুলো বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে এসব স্থানে পানির প্রবাহ বেড়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। রাতারগুল গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, “ঈদ উপলক্ষে রাতারগুলে পর্যটকদের জন্য আমরা প্রস্তুত। এখানে তিনটি ঘাট মিলে ২০০-২৫০টি নৌকা প্রস্তুত রয়েছে। জলাবনের মধ্য দিয়ে নৌকা ভ্রমণ এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।”

এদিকে, শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। ঈদের ছুটিতে এখানেও অতিরিক্ত ভিড়ের আশা করা হচ্ছে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, “ঈদের সময় সিলেটের হোটেল-মোটেল পুরোপুরি পর্যটকে ভরে যাবে। দীর্ঘদিনের পর্যটক-খরা কাটিয়ে এবার খাতটি চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ এসেছে।”

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। গত রোববার জেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান-বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “সিলেট পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরতে পারেন।”

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই পর্যটকরা সিলেটে এসে শান্তি ও আনন্দ নিয়ে ফিরে যান। সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু পর্যটনকেন্দ্রে বালু-পাথর লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদের ছুটি দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটন খাতকে নতুন গতি দেবে। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আতিথেয়তা ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে এবারের ঈদ পর্যটকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Read Previous

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন

Read Next

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল শনিবার ঈদুল ফিতর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular