১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আঙকোর থম: কম্বোডিয়ার প্রাচীন নগরী ও রহস্যময় মুখাবয়বের শহর

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আঙকোর ওয়াটের মতোই বিশ্বখ্যাত আরেকটি স্থাপনা হলো আঙকোর থম। এটি কেবল একটি মন্দির নয়, বরং এক বিশাল প্রাচীন নগরী যা খেমার সাম্রাজ্যের শেষ রাজধানী ছিল। পর্যটকদের কাছে এটি এক রহস্যময়, ঐতিহাসিক আর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার ভান্ডার।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

আঙকোর থম ১২শ শতকে রাজা জয়বর্মণ সপ্তম নির্মাণ করেন। এর আকার বিশাল—প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল এই নগরী। চারপাশে উঁচু প্রাচীর আর খাল দিয়ে ঘেরা ছিল রাজধানী, যেখানে ছিল রাজপ্রাসাদ, মন্দির, প্রশাসনিক ভবন আর বাজার।
সবচেয়ে বিখ্যাত অংশ হলো বায়োন টেম্পল, যার টাওয়ারগুলোতে বিশাল মুখাবয়ব খোদাই করা। ধারণা করা হয়, এগুলো বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বরের মুখ, যা সহানুভূতি ও শান্তির প্রতীক।

স্থাপত্য ও সংস্কৃতি

আঙকোর থমে একাধিক মন্দির, গ্যালারি ও সেতু রয়েছে। দক্ষিণ প্রবেশদ্বারের সেতুর দুই পাশে দেব-অসুরের ভাস্কর্য, যা সমুদ্র মন্থনের কাহিনীকে ফুটিয়ে তোলে। বায়োন মন্দির ছাড়াও ফিমিয়ানাকাস, এলিফ্যান্ট টেরেস, আর লেপার কিং টেরেস পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে এখানে এখনও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। প্রাচীন খেমার সভ্যতার প্রকৌশল দক্ষতা আর শৈল্পিকতা এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

আঙকোর থম ঘুরতে গেলে দেখা যায় ঘন জঙ্গল, প্রাচীন ভগ্নস্তূপ আর মন্দিরগুলোকে ঘিরে থাকা সবুজ প্রকৃতি। বায়োন মন্দিরের টাওয়ারগুলোর শত শত রহস্যময় মুখ আকাশের সাথে মিশে যায়—যা ভ্রমণকারীদের মনে অদ্ভুত এক প্রশান্তি এনে দেয়। ভোর কিংবা বিকেলের আলোতে মন্দিরগুলোর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়।

প্রবেশমূল্য

আঙকোর থমের জন্য আলাদা টিকিট লাগে না। এটি আঙকোর আর্কিওলজিকাল পার্ক-এর অংশ।

  • ১ দিনের পাস: ৩৭ মার্কিন ডলার
  • ৩ দিনের পাস: ৬২ মার্কিন ডলার
  • ৭ দিনের পাস: ৭২ মার্কিন ডলার
    বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে।
    ১২ বছরের নিচে শিশুদের প্রবেশ ফি নেই।

যাতায়াত ব্যবস্থা

  • ঢাকা থেকে যাওয়া: সিয়েম রিপে সরাসরি ফ্লাইট নেই। ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর বা সিঙ্গাপুর হয়ে সিয়েম রিপ এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে হয়।
  • সিয়েম রিপ থেকে আঙকোর থম: শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে।
    • টুকটুক: অর্ধদিনের জন্য ৮–১০ ডলার, পূর্ণ দিনের জন্য ১৫–২০ ডলার।
    • সাইকেল ভাড়া: দিনে ২–৪ ডলার।
    • মোটরবাইক ভাড়া: দিনে ৮–১২ ডলার।

থাকার ব্যবস্থা

আঙকোর থমের আশপাশে থাকার ব্যবস্থা নেই, তবে সিয়েম রিপ শহরেই পর্যটকদের জন্য সব ধরণের হোটেল রয়েছে।

  • বাজেট হোটেল: প্রতিদিন ১০–২০ ডলার
  • মিড-রেঞ্জ হোটেল: প্রতিদিন ৩০–৬০ ডলার
  • লাক্সারি রিসোর্ট: ৮০–২০০ ডলার বা তার বেশি

খাবার ও স্থানীয় স্বাদ

সিয়েম রিপে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খাবারও সহজলভ্য। স্থানীয় খাবারের মধ্যে মাছ দিয়ে তৈরি আমক (Amok) খুব জনপ্রিয়। স্ট্রিট ফুডেও নানা ধরনের নুডলস, গ্রিলড মাংস পাওয়া যায়। একবেলা খাবারের গড় খরচ ৩–১০ ডলার।

ভ্রমণের সেরা সময়

  • নভেম্বর থেকে মার্চ: ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া, ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
  • জুন থেকে অক্টোবর: বর্ষার মৌসুমে প্রকৃতি সবুজে ভরে ওঠে, তবে কাদা-পানি কিছুটা অসুবিধা তৈরি করতে পারে।

আঙকোর থম শুধু একটি পুরনো মন্দির নয়, এটি ছিল একসময়ের সমৃদ্ধ নগরী। রাজপ্রাসাদ, রহস্যময় বায়োনের মুখাবয়ব, ইতিহাসের ভাস্কর্য আর জঙ্গলে ঘেরা ভগ্নস্তূপ সব মিলিয়ে আঙকোর থম পর্যটকদের জন্য এক ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা। প্রাচীন সভ্যতার মহিমা অনুভব করতে চাইলে আঙকোর ওয়াটের পাশাপাশি আঙকোর থমও অবশ্যই ভ্রমণ তালিকায় রাখা উচিত।

Read Previous

মহেশখালী ভ্রমণ: ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি আর খরচের পুরো গাইড

Read Next

যেসব এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular