
কেবিনক্রু, ছবি : Ai জেনারেটেড
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক :প্রতি বছর ৩১ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস। এই দিনটি উড়োজাহাজের কেবিন ক্রু সদস্যদের অবদান, ত্যাগ ও পেশাদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়। ৩৫ হাজার ফুট উপরে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করার পেছনে যাঁরা নীরবে কাজ করে যান, তাঁদের সম্মান জানাতেই এই দিবসের উদযাপন।
২০১৫ সালে কানাডার কেবিন ক্রু ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রথমবার এই দিবস পালন শুরু হয়। এরপর থেকে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ধারণা কেবিন ক্রুরা শুধু খাবার পরিবেশন ও হাসিমুখে সেবা করেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁরা প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। বিমানে আগুন, জরুরি অবতরণ, চিকিৎসা সেবা, সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের বিস্তৃত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশেও এই দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ারসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুরা প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে সেবা দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষ করে তরুণীদের কাছে এ পেশা এখন আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পৃথিবী দেখার এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য সুযোগ।
তবে এই পেশার সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। অনিয়মিত কর্মসূচি, জেট ল্যাগ, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মানসিক চাপ কেবিন ক্রুদের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে নারী ক্রুদের সামাজিক নানা প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। করোনা মহামারির সময় তাঁরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
এই বিশেষ দিনে বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ক্রু সদস্যদের সম্মানিত করছে। আইএটিএসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভালো বেতন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়েছে।
পরেরবার যখন আপনি বিমানে উঠবেন, দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই হাস্যোজ্জ্বল কেবিন ক্রু সদস্যকে একটু ধন্যবাদ জানাতে ভুলবেন না। কারণ তাঁরা শুধু সেবিকা নন, আকাশপথের নীরব প্রহরী।



