
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একের পর এক পর্যটন খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করলেও, বাংলাদেশের অবস্থান এখনো এই প্রতিযোগিতায় সবার নিচে। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলাদেশ, অন্যদিকে পর্যটক টানতে পারছে না আন্তর্জাতিকভাবে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান এমনকি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড়-টিলা, হাওড়-বাঁওড়, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক পর্যটন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান হতাশাজনক। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ২০২৪ অনুযায়ী, ১১৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি সর্বনিম্ন।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের এই পিছিয়ে থাকার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—
- জটিল ভিসা প্রক্রিয়া
- অপর্যাপ্ত ও অনুন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো
- নিরাপত্তা ও ভ্রমণ বিমা সংকট
- সামাজিক বিধিনিষেধ ও সীমিত বিনোদন ব্যবস্থা
- ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক প্রচারের ঘাটতি
২০২৩ সালের সরকারি তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিদেশি পাসপোর্টধারী আসার সংখ্যা ছিল প্রায় ৬.৫ লাখ। তবে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত বিদেশি পর্যটক ছিলেন মাত্র ২৫-৩০ হাজার, যাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশি বা ব্যবসায়িক কাজে আসা অতিথি।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, “আমরা বিদেশিদের জন্য ই-ভিসা চালুর প্রস্তাব দিয়েছি, বিশেষ করে যারা বর্তমানে অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। এছাড়া, সেনজেন, ইউকে, ইউএসএসহ উন্নত দেশের ভিসাধারীদের বাংলাদেশে বিনা ভিসায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু হলে ট্রানজিট যাত্রীরা যাতে বাংলাদেশে এক-দুই দিন ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রস্তাবনা রয়েছে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফিউজ্জামান জানান, “বাংলাদেশে এখনও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ বিমা না থাকা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার-প্রচারণার অভাব আমাদের বড় বাধা হয়ে আছে।” তিনি বলেন, “প্রতিটি দূতাবাসে একজন করে ট্যুরিজম কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া উচিত, যিনি স্থানীয় পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও কানেক্টিভিটি বাড়াবেন।”
পর্যটন সম্ভাবনার অপার দরজা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার এই বাস্তবতা নতুন করে ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। ভিসা সহজীকরণ, পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, কোস্টাল ট্যুরিজম, ইকো-ট্যুরিজম ও নাইটলাইফ ট্যুরিজমের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উপস্থাপন শক্তিশালী করলেই হয়তো পাল্টে যেতে পারে দেশের পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ।



