
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: জাপানের ঐতিহ্যবাহী আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। এর নান্দনিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় তাৎপর্য এবং অ্যাডভেঞ্চারের হাতছানি অনেক পর্যটককে প্রতি গ্রীষ্মে এখানে টেনে আনে। জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত হিসেবে মাউন্ট ফুজির উচ্চতা ৩,৭৭৬ মিটার, এবং এটি ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পায়।
প্রতি বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মাউন্ট ফুজি আরোহনের মৌসুম ধরা হয়। এই সময় চারটি জনপ্রিয় রুট—ইয়োশিদা, সুবাশিরি, গোতেনবা ও ফুজিনোমিয়া—পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। অসংখ্য মানুষ সূর্যোদয়ের ‘গোরাইকো’ দৃশ্য দেখার আশায় রাতভর পাহাড়ে উঠেন, যা মাউন্ট ফুজি অভিযানের অন্যতম আকর্ষণ।
তবে চলতি বছর অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড় ও পরিবেশগত চাপে জাপান সরকার বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ চালু করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ইয়োশিদা রুটে প্রবেশে এখন থেকে প্রতি পর্যটককে ¥২,০০০ ফি প্রদান করতে হবে এবং একদিনে সর্বোচ্চ ৪,০০০ পর্যটকের বেশি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া যারা একদিনে উঠে-নামা করতে চান, তাদের জন্য ‘ডে ট্রিপার’ টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অনলাইনে অগ্রিম সংগ্রহ করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, পর্যটকরা যেন নির্ধারিত পথ ব্যবহার করেন এবং কোনও আবর্জনা ফেলে না যান। স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পাহাড় শুধু একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন নয়, বরং জাপানি সংস্কৃতির গভীর অংশ। তাই সেখানে ভ্রমণ করার সময় সকলের উচিত স্থানীয় নিয়ম-কানুন ও পরিবেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
মাউন্ট ফুজির আশপাশের ফুজি ফাইভ লেকস অঞ্চল, হাকোনে শহর এবং ফুজিনোমিয়া থেকেও দৃষ্টিনন্দন ভিউ পাওয়া যায়। টোকিও থেকে সরাসরি ট্রেন কিংবা বাসযোগে মাত্র ২-৩ ঘণ্টায় ফুজি সাবারু লাইন ফিফথ স্টেশন পর্যন্ত যাওয়া যায়, যেখান থেকে পর্বতারোহণ শুরু হয়।
মাউন্ট ফুজির শিখর ছোঁয়ার চেষ্টা নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে সেই সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভ্রমণ আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ, নিয়ম মেনে এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এমন ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণ সবার জন্য উপভোগ্য করে তোলা সম্ভব।



