২৩/০৪/২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটন খাতে ধস: স্থবির হয়ে পড়েছে সম্ভাবনাময় শিল্প

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প বর্তমানে গভীর সঙ্কটে রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাহীনতা পর্যটন খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে রাজধানীর আশপাশের রিসোর্ট পর্যন্ত সবখানেই পর্যটকের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোঠায়। ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক হোটেল-রিসোর্ট মালিক।

 পাহাড়ে ভৌতিক নীরবতা

রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মতো পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় একসময় ভিড় লেগে থাকলেও এখন সেসব স্থানে চলছে একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা। পর্যটকশূন্যতায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক হোটেল, রিসোর্ট ও দোকানপাট। রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে ২০ ভাগও বুকিং নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রিয় স্থান ঝুলন্ত সেতুতেও নেই কোনো পর্যটকের আনাগোনা।

কক্সবাজার-কুয়াকাটায় কমছে ভিড়

দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। মৌসুম ছাড়া এখন হোটেল-মোটেলগুলো খালি পড়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন। একই চিত্র কুয়াকাটাতেও। বছরের বেশিরভাগ সময়ই সৈকত এলাকায় থাকে জনশূন্যতা।

ঢাকার আশপাশেও বিপর্যয়

গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের জনপ্রিয় রিসোর্টগুলোতেও একই চিত্র। ‘ছুটি রিসোর্ট’ বা ‘সিকাল্ব রিসোর্ট’-এর মতো আগে যেখানে বুকিং পেতে হিমশিম খেতে হতো, এখন সেখানে সুনশান নীরবতা। রিসোর্টগুলো টিকে আছে শুধু করপোরেট মিটিং বা ব্যক্তিগত আয়োজনের মাধ্যমে।

ট্যুর অপারেটরদের ভিন্ন বার্তা

এমন সংকটের মাঝেও আশাবাদী ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়েছিল পর্যটন খাত, তবে এখন উন্নতির পথে। নতুন নতুন স্পট আবিষ্কৃত হচ্ছে, হোটেল-রিসোর্টও গড়ে উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে, তবে তাদের জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও পর্যটন বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও ধস

বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন বলেন, “সারাদেশের হোটেল-রেস্তোরাঁয় মন্দাভাব চলছে। রাত ১১টার পর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তা না ফিরলে এই খাতেও ধস নামবে।”

ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা

ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৩০টি স্পটে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। জনবল সীমিত হলেও ভবিষ্যতে রেসকিউ ড্রোন, পাহাড়ি যানবাহন এবং প্রশিক্ষিত বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র পুলিশের উদ্যোগ নয়, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গঠনে সরকারি উদ্যোগ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিই এখন সবচেয়ে জরুরি।

Read Previous

শ্রীলঙ্কার গল: উপনিবেশিক ইতিহাস ও সমুদ্র সৌন্দর্যের মুগ্ধকর মিলন

Read Next

সেন্টমার্টিন রক্ষায় আসছে মাস্টারপ্ল্যান, জানালেন পরিবেশ উপদেষ্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular