২৬/০৪/২০২৬
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামহাম জলপ্রপাতে দর্শনার্থীর ভীড়

মৌলভীবাজারের হামহাম জলপ্রপাত,যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের পদচারনায় এখন মূখরিত। সম্পতি সরেজমিনে গেলে এমন চিত্র দেখা মেলে। পায়ে হেঁটে চার কিলোমিটার টিলা বেয়ে যেতে দর্শনার্থীরা যেন ক্লান্তি নেই।তারা হামহামের সৌন্দর্য ছুঁয়ে দেখতে চান স্বশরীরে।

আজ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) পাাহাড়ি টিলার আঁকাবাঁকা পথে পথে দেখা হয় বহু পর্যটকদের সাথে। তারা জানান, চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে বিক্ষিপ্ত পাথর,কাটা বাঁশ, জোঁকের আক্রমন আর উঁচু-নিচু টিলা বেয়ে রীতিমত যুদ্ধ করে জলপ্রপাতে পৌছাতে হয়। দেড় ঘণ্টা পথ হেটে কাঙ্খিত স্থানে পৌছালে সব কষ্ট দূর হয়ে যায় এর ঝড়নার অপরুপ সৌন্দর্যে।

বন্ধু-বান্ধবসহ রাজধানীর খিলগাঁও জেলা থেকে হামহামে আসা পর্যটক রাহাত জানান,আমরা৮জন বন্ধুর একটি গ্রুপ দেড় ঘন্টা পায়ে হেঁটে ঝর্ণায় পৌছেছি। কষ্ট হলেও প্রকৃতি ও ঝর্ণাধারা দেখে খুব ভালো লাগছে, আসার পথে আমার এক বন্ধুকে জোকে ধরেছিল। আরেক পর্যটক বলেন, “এখানকার পাহাড়ে উঠানামা খুবই কষ্টের। কিন্তু ঝর্ণার কাছাকাছি টিলার যে সোজাসুজি উচুঁ-নিচু যে একটা অবস্থা। এটা খুব কষ্টের। খারা উচু টিলায় মন ভরেনি”। ঢাকার স্বনামধন্য ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪শিক্ষার্থী এখানে ঘুরতে আসেন তাদের মাঝে মৃত্তিকা দাশ বলেন, পাহাড়ে আসা যাওয়ায় আমাদের চার ঘন্টা লেগেছে। খুবই কষ্টকর। জয়পুরহাট জেলার শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ,সিরাজগঞ্জের এক ছাত্র বলেন, “যারা ট্রাকিং করতে ভালো বাসেন তাদের জন্য হামহামে আসা মজার।

আর যারা পায়ে হাটাকে কষ্ট মনে করেন তাদের এখানে না আসাই ভালো”। কুরমা চা বাগানের শ্রমিক চন্দন পরজাপতি ও সন্তুষ কুমার দাশ বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় হামহামে এসে অনেক পর্যটক আহত ও নিহত হয়েছেন। এখানকার সড়কপথ সংস্কার করা,নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ,পাহাড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক দেয়া খুবই জরুরী। কমলগঞ্জ উপজেলার এক কর্মকর্তা এক প্রশ্নের জবাবে জানান, হামহামের সড়কটি সংস্কার করতে চাই। কিন্তু জায়গাটি বনবিভাগের। তাদের সাথে আলোচনা করে গহীন বনের এই সড়কটি সংস্কার করা হবে। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, হামহাম জল প্রপাত সস্কার’র বিষয়টি আমাদেও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। আগামী মে মাসে ঢাকায় যে প্রজেক্ট পাঠানো হবে এটাতে হামহাম থাকবে।

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বনভিট এলাকায় অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত। শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও কমলগঞ্জের শমসেরনগর হয়ে হামহামে যেতে হয়। পাহাড়ের এক কিনারায় গাড়ি রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা টিলা বেয়ে গন্তব্যের উদ্যেশ্যে পাড়ি জমান পর্যটকরা। ২০১০ সালে একদল পর্যটক এটির আবিষ্কার করেন। এর পর থেকেই এখানে বাহিরের মানুষের যাওয়া-আসা শুরু। স্থানীয়দের অনেকেই কাল্পনিকভাবে হামহামকে তুলনা করেন। তারা জানান, শত শত বছর আগে এখানে নাকি পরীরা এসে গোসল করতে তাই এর নাম হামহাম। কেউ বলেন, পাহাড়ি বনের গহীনের এই ঝর্ণায় জ্বিনেরা বসবাস করতো।

Read Previous

হাতিরঝিলে হয়ে গেলো বিউটিফুল বাংলাদেশ রান ২০২৫

Read Next

হজ ফ্লাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular