
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের মেদান ইম্বিতে বৃহস্পতিবার রাতে সারাসী অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।এই অভিযানে ৫০৬ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা যায়।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, মেদান ইম্বি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসীদের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। এখানকার অনেক দোকানঘরের উপরের তলা ভাড়া নিয়ে অবৈধ অভিবাসীরা বসবাস করছে।
অভিযানের সময় অবৈধরা পালানোর চেষ্টা করায় দুই বিদেশি পুরুষ আহত হন। এছাড়া, উঁচু হিলের জুতা পরা এক মহিলাও পালাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্টের ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স সার্ভিস ইউনিট তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে মোট ৮৯৫ জনকে পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ৭৪৯ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক এবং ১৪৬ জন স্থানীয়। আটকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ছাড়াও নেপালি (১৪২ জন), ইন্দোনেশিয়ান (১০৯ জন) এবং কিছু ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান নাগরিকও ছিল।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়াদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া এবং ওয়ার্কিং ভিজিট পাসের অপব্যবহার। অনেক কর্মীকে দেখা গেছে যাদের জোহরবারুর ওয়ার্কিং ভিসা থাকলেও তারা কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছিলেন।
পরিদর্শনে আরও দেখা গেছে, বিদেশি শ্রমিকরা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে পাঁচ-ছয় জন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বাড়িতে ৩০ জন পর্যন্ত ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।
মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, যারা মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ৩,৮৭০টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ২২,৪৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেন।



