১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের রাখাইন পল্লি মেতেছে জলকেলিতে

সারি সারি সাজানো পানিভর্তি বাঁশের ড্রাম , পেছনে রঙিন করে সাজানো প্যান্ডেল যা বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেলের কাঠামো। চারপাশজুড়ে উচ্ছ্বাস আর ছলছল পানির শব্দে উৎসব। রাখাইন পঞ্জিকায় বুধবার (১৬ এপ্রিল) শেষ হয়েছে ১৩৮৬ সাল।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে নতুন বছর ১৩৮৭। বর্ষবরণকে ঘিরে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লিগুলোতে শুরু হয়েছে জলকেলি উৎসব যা চলবে ৩দিন। এই উৎসবে রাখাইন ছাড়াও অংশ নেয় ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটক।

এটি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠান নয়, উৎসব যেন রাখাইন সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে একে অপরকে পানি ছুড়ে দিয়ে মঙ্গল কামনা করে সম্প্রীতি আর wনতুন বছর শুরুর আনন্দে মেতেউঠে।

রাখাইনদের বিশ্বাস এই জল হচ্ছে মঙ্গলের প্রতীক। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, দুঃখ আর গ্লানি মুছে নতুন বছর শুরু হয় নির্মলতায়। বাঁশ, কাপড়, রঙ আর পানির ব্যবহারেই ফুটে উঠে রাখাইনদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য।

সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশ-বেত দিয়ে বানানো অস্থায়ী প্যান্ডেলে থরে থরে সাজানো থাকে পানি ভর্তি ড্রাম। তার পাশে ফুল আর কাগজের তৈরি নকশা। প্রতিটি প্যান্ডেল যেন একেকটি শিল্পকর্ম। তরুণেরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যেন্ডেলে। তরুণীরা পানির ছোঁয়ায় জবাব দিচ্ছেন হাসিমুখে। উৎসবে নেই কোনো প্রতিযোগিতা, আছে শুধুই আনন্দের বিনিময়।

রাখাইনদের নারী নেত্রী মাটিং টিন রাখাইন জানান, বুদ্ধস্নান দিয়ে শুরু হয় এই সাংগ্রেং। বিহার বা ঘরের বুদ্ধমূর্তি স্নান করিয়ে শুরু হয় ধর্মীয় এই রীতি পালন। এরপর ১৫ এপ্রিল শোভাযাত্রা ও পঞ্চশীল গ্রহণের মাধ্যমে সবার মঙ্গল কামনা করা হয়। ১৬ এপ্রিল ছিল শিশুদের জন্য পানি খেলার দিন। আর ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে মূল তিন দিনের জলকেলি।

কক্সবাজার শহরের রাখাইন পল্লিতে অন্তত ২০টি প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে এই জলকেলি উৎসবকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, চৌফলদণ্ডী ও রামুর রাখাইন পল্লিতেও চলছে একই আয়োজন।

রাখাইন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মংছেনলা রাখাইন বলেন, জলকেলি আমাদের সবচেয়ে প্রাচীন এবং প্রাণবন্ত উৎসব। এখানে শুধু রাখাইনরা নয়, অন্য ধর্মের মানুষেরাও যোগ দেন। এটা কেবল আনন্দের নয়, সম্প্রীতিরও উৎসব।

অগ্গমেধা ক্যাং পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মংহ্লা মি রাখাইন বলেন, আমাদের এ উৎসবে শুধু পানি নয়, আছে রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সৌজন্য সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা আর মঙ্গল কামনার রীতি। তাই এ জলকেলির জন্য আমরা এক বছর অপেক্ষা করে থাকি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জানান, এ উৎসব কক্সবাজারের অন্যতম সুন্দর সংস্কৃতি। ধর্মীয় হলেও এটি সবার অংশগ্রহণে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে পরিণত হয়। সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

Read Previous

বিদেশ যাত্রায় সরাসরি সরকারকে ট্রাভেল ট্যাক্স দেবে যাত্রীরা: এনবিআর চেয়ারম্যান

Read Next

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য এয়ারবাস কিনবে এয়ার অ্যাস্ট্রা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular