
দেশের নতুন প্রজন্ম এখন দেশ-বিদেশের তাবত নামজাদা শেফদেরকে চেনে আর নিজেরাও হতে চায় শেফ। আজ ২০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শেফ দিবসে এই পেশার সঙ্গে জুড়ে থাকা জানা-অজানা তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
শেফ কথাটি শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে সাদা পোশাক আর সাদা লম্বা টুপি পরা রন্ধনবিশেষজ্ঞের চেহারা। আসলে ফ্রেঞ্চ কুকিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গিয়েই এসেছে শেফ কথাটি। ভূগোলকের এই দিকে শেফ-এর ধারণা কিছুটা নতুন হলেও এখন আমাদের দেশের প্রশিক্ষিত শেফরা দেশ-বিদেশে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখছেন।
তারকাখচিত হোটেল ও বিশেষায়িত রেস্তোরাঁগুলোতে এখন দেশি শেফরাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা, দেশের নতুন প্রজন্ম এখন দেশ ওঃ বিদেশের তাবত নামজাদা শেফদের চেনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদেরকে ফলো করে আর নিজেরাও হতে চায় শেফ। আর চাইবে নাই বা কেন, এখন সারা বিশ্বেই স্বনামধন্য শেফদের তারকাখ্যাতি আকাশচুম্বী।
তারকা শেফ বললেই সবচেয়ে জনপ্রিয় গর্ডন র্যামজের কথাই মনে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক রান্নার অনুষ্ঠানে বিচারকের ভূমিকা পালনের সুবাদে এই বৃটিশ শেফের অসাধারণ রন্ধনশৈলীর মতো নাকের আগায় উঠে থাকা বদমেজাজের নাটকীয় রূপটিও সকলের জানা। মজার ব্যাপার হচ্ছে তাঁরই গুরু, ৩১ টি অর্থাৎ এ যাবতকালের সর্বাধিক মিশেলিন স্টারপ্রাপ্ত ফ্রেঞ্চ শেফ জোল রোবুশানেরও ছিল বেজায় রগচটা স্বভাব।
চিরন্তন ফ্রেঞ্চ কুইজিন এই প্রয়াত সেরা শেফের হাতেই পেয়েছে পূর্ণতা। নরম-সরম আর হাসি-খুশি জেমি অলিভার, আবেদনময়ী আর খাদ্যরসিক নাইজেলা লসন তো সকলের প্রিয়। আরও আছেন বৈজ্ঞানিক তেলেসমাতি সহকারে রান্না বান্নার জন্য বিখ্যাত শেফ হেস্টন ব্লুমেনথাল, ভারতীয় কুইজিনকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়া শেফ বিকাস খান্না, বর্তমানে সর্বাধিক মিশেলিন স্টার পাওয়া শেফ অ্যালাইন ডুকাস, জাপানি কুইজিনের ধারক বলে পরিচিত ইয়োশিহিরো মুরাতাসহ আরও অনেকে।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস
আজ ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। ২০০৪ সালে বিখ্যাত শেফ ড. বিল গালাগার এই দিবসের প্রবর্তন করেন। এই পেশার প্রতি সম্মান জানানোর সঙ্গে সঙ্গে দিনটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের তরুণ প্রজন্মকে রন্ধনশিল্প ও খাদ্যসংস্কৃতির ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
কাকে বলব শেফ
শেফ কথাটি বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে রন্ধনশিল্পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফরাসি শেফ দ্য কুইজিন কথাটি থেকেই এর উৎপত্তি, যার অর্থ কিচেন বা রন্ধনশালার প্রধান। এখন শেফ বলতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কালিনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত ও স্বীকৃত হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রন্ধনবিশেষজ্ঞকেই বোঝায়। এই শেফ অনেক ধরনের হতে পারে, যার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট নামকরণ ব্যবস্থা। বিভিন্ন পর্যায়ের শেফের প্রশিক্ষণ ও অর্জনের তালিকায় থাকে ভিন্নতা। আবার শেফের কাজ কী আসলে, সে প্রশ্ন আসতে পারে অনেকের মনে। তিনি আসলে কিচেনের প্রধান। মেনু পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পরিবেশনা—সবকিছুই হবে তাঁর নেতৃত্বে।
এই যে শেফের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খলভাবে কিচেন চালানো—এই ধারণার জন্ম হয় ১৪ শতকে সামরিক বাহিনীর খাবার তৈরির সময়। তখনই শেফদের র্যাঙ্কিং সিস্টেমেরও প্রবর্তন করা হয়। ধীরে ধীরে বিভিন্ন গাইডলাইন আসে শেফদের কার্যক্রমে। দেওয়া হয় নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম। বিভিন্ন পর্যায়ের শেফদের নামকরণ করা হয়।
ফরাসি বিপ্লবের পর রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায় নতুন জোয়ার এলে শেফদের কাজের ক্ষেত্র বহুগুণে বিস্তার লাভ করে। এই ধারাবাহিকতায় অগাস্ট এস্কোফিয়ের (১৮৪৬-১৯৩৫) ছিলেন পথিকৃৎ। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত এই রন্ধনবিশেষজ্ঞকেই আধুনিক শেফদের মধ্যে প্রথম হিসেবে ধরা হয়। এই ফ্রেঞ্চ শেফকে ‘কিং অব শেফস, শেফ অব কিংস’ বলা হয়।
পর্যটন সংবাদ/



