
পাইলট ও কেবিন ক্রুদের উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ৪৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে এমিরেটস এয়ারলাইন। ভবিষ্যতের এভিয়েশন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য দক্ষ কর্মী তৈরি করা এর মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি যাত্রী সেবার মানকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এমিরেটস তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত করছে। এতে রয়েছে উচ্চমানের ফ্লাইট সিমুলেটর, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, কেবিন ক্রুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নিরাপত্তা ও সেবা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীরা আরও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন, যা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমিরেটস ইতোমধ্যে এ৩৫০ উড়োজাহাজের জন্য ৩০ জন পাইলট এবং ৮২০ জন কেবিন ক্রুর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ আরও ৫০ জন পাইলট এ৩৫০ ফুল-ফ্লাইট সিম্যুলেটরে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবে।
এমিরেটসের ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজের জন্য ৬৫টি এয়ারবাস এ৩৫০ এবং বিভিন্ন ধরণের ২০৫টি বোয়িং ৭৭৭-এক্স অর্ডার করেছে।
চলতি বছরেই এমিরেটস তাদের আধুনিক পাইলট প্রশিক্ষণ স্থাপনা চালুর জন্য সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। ৬৩ হাজার ৩১৮ বর্গফুট আয়তনের এই স্থাপনায় এ৩৫০ এবং ৭৭৭-এক্স উড়োজাহাজের জন্য ৬টি ফুল ফ্লাইট সিম্যুলেটর বে থাকছে।
এছাড়াও এমিরেটসের সকল পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মোট ১৭টি ফুল ফ্লাইট সিম্যুলেটর পাওয়া যাবে, যেখানে এভিয়েটররা তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বছরে ১৩০,০০০ এর অধিক ঘন্টা প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বিমান সংস্থাটি নতুন পাইলট ও কেবিন ক্রু নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণের উপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এভিয়েশন খাতে কর্মীর চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং এমিরেটস এই চাহিদা পূরণের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সম্প্রসারণের মাধ্যমে তারা বিশ্বমানের কর্মী তৈরি করতে চায়, যারা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমিরেটসের এই উদ্যোগ শুধু তাদের নিজস্ব সেবার মান উন্নত করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিনিয়োগের ফলে এমিরেটস আরও কার্যকরী ও আধুনিক বিমান সংস্থা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। এর ফলে যাত্রীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পর্যটন সংবাদ/



