
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র এক মাসেরও কম সময় বাকি, কিন্তু আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে হোটেল রিজার্ভেশন প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএলএ) এর একটি সমীক্ষায় এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।
সংস্থাটি নিউ ইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনকারী ১১টি মেট্রোপলিটন এলাকায় তাদের সদস্য হোটেলগুলোর ওপর জরিপ চালায়। ফলাফলে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে বুকিং প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভিসা জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগকে চাহিদা কমার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এএইচএলএর সভাপতি রোসানা মাইয়েত্তা বলেন, “বিভিন্ন কারণে প্রাথমিক আশাবাদ কিছুটা ম্লান হয়েছে, তবে সামনের সূচকগুলো এখনও উল্লেখযোগ্য সুযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য স্বাগতপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিফাকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে এবং ফাইনাল ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে। তবে টিকিটের উচ্চ মূল্য, সেকেন্ডারি মার্কেটে অতিরিক্ত দাম এবং যাতায়াত খরচ নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে যে, ফিফার আগাম রুম বুকিংয়ের অনেক অংশ পরে বাতিল হয়ে যাওয়ায় কৃত্রিম চাহিদার সৃষ্টি হয়েছিল। এতে কানসাস সিটিসহ কয়েকটি শহরে জুন-জুলাই মাসে বুকিং স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও কমে গেছে। বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো ও সিয়াটলের অনেক হোটেল কর্মকর্তা টুর্নামেন্টকে ‘গুরুত্বহীন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ বিষয়ে ফিফা জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে রুম খালি করা হয়েছে এবং এটি বড় ক্রীড়া আয়োজনের প্রচলিত রীতি। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, এবারের বিশ্বকাপে বিশ্বব্যাপী চাহিদা অভূতপূর্ব এবং ইতোমধ্যে পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ফিফা হোটেল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
সূত্র: এএফপি


