২৯/০৪/২০২৬
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক বিমান ক্রয় চুক্তির পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

বিমানে বোয়িং

বিমানে বোয়িং

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামীকাল ঢাকায় একটি বড় ধরনের বিমান ক্রয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, যা জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান তার দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ অনুষ্ঠেয় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারি ও কূটনৈতিক অঙ্গনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। বিমানের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদ, আর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন মার্কিন বিমান নির্মাতা সংস্থা বোয়িং-এর প্রতিনিধি।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে রয়েছে বোয়িং ৭৮৭-১০ ও ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং স্বল্প ও মধ্যপাল্লার জন্য ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। আনুমানিক তালিকামূল্যে এই ক্রয়ের পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীচাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বহর আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। নতুন ড্রিমলাইনার যুক্ত হলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘপাল্লার রুটে সক্ষমতা বাড়বে, আর ম্যাক্স জেটগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্পদূরত্বের রুটে কার্যক্রম আরও কার্যকর করবে।

এই চুক্তি এমন এক সময়ে আসছে, যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অপেক্ষায়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন টার্মিনাল ও আধুনিক উড়োজাহাজ একসঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক হাবে রূপ দিতে সহায়তা করবে।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাস বহরে যুক্ত করার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের সঙ্গেই এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান।

বাণিজ্যিক দিকের বাইরে এই চুক্তির একটি কূটনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই বিমান ক্রয়কে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি শুধু উড়োজাহাজ কেনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গভীর করার কৌশলগত পদক্ষেপ।

Read Previous

বাংলাদেশের পর্যটন মেগা পরিকল্পনা: ২০৪০ সাল নাগাদ ৫.৫৭ কোটি পর্যটক ও ২.১৯ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular