২৫/০৪/২০২৬
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ফিরে আসছে জব্বারের বলিখেলার ঐতিহ্য, বৈশাখী মেলায় উৎসবের আমেজ তিন দিন

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলার লোকজ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য অধ্যায় আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চট্টগ্রাম শহরে। ঐতিহাসিক জব্বারের বলিখেলা আগামী ২৫ এপ্রিল লালদিঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, যা ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নগরীর কেন্দ্রজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

১১৭ বছরের ঐতিহ্য বহন করা এই বলিখেলা কেবল কুস্তির প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশাখী মেলা, লোকজ খাবার, হস্তশিল্প আর সাংস্কৃতিক উপকরণে ভরা স্টল। আয়োজকদের ভাষায়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির এই সম্মিলন স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. শাহাদাত হোসেন জানান, সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন। তাঁর মতে, জব্বারের বলিখেলা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি বড় লোকউৎসবে রূপ নিয়েছে। এই আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করতেও ভূমিকা রাখছে।

বলিখেলার সূচনা হয়েছিল ১৯০৯ সালে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে প্রয়াত আব্দুল জব্বার সওদাগর এই কুস্তি প্রতিযোগিতা শুরু করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই উদ্যোগ আজ জাতীয় পর্যায়ের একটি স্বীকৃত সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাঠসংলগ্ন একটি মোড়ের নামকরণ করা হয়েছে আব্দুল জব্বার স্কয়ার। সেখানে উন্মোচন করা হয়েছে পোড়ামাটির একটি শিল্পকর্ম, যা এই ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে যুক্ত হলো নগরীর ইতিহাসে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কুস্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন মেয়র। অনুষ্ঠান ঘিরে শতাধিক স্টলে সাজানো বৈশাখী মেলায় পাওয়া যাবে ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প ও লোকজ সামগ্রী।

নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস। আয়োজকদের লক্ষ্য একটাই—দর্শনার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আয়োজকরা জব্বারের বলিখেলাকে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পর্যটনের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। পাশাপাশি আব্দুল জব্বার সওদাগরের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত বলিখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠেছে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর উৎসবের রঙে ভর করে জব্বারের বলিখেলা এবারও প্রমাণ করতে যাচ্ছে—চট্টগ্রাম শুধু বন্দরনগরী নয়, এটি জীবন্ত সংস্কৃতির শহর।

Read Previous

বিমান বাংলাদেশকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা, বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে

Read Next

রিদম গ্রুপ–মণিপাল হাসপাতাল চুক্তি: বাংলাদেশে চিকিৎসা পর্যটনে নতুন দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular