
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাঞ্চল্যকর লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবসহ অন্তত চার জন সিনিয়র পাইলট প্রয়োজনীয় উড্ডয়ন ঘণ্টা পূরণ না করেই জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)-এর নিয়ম অনুসারে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম ২০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা (যার মধ্যে ১০০ ঘণ্টা একক পাইলট হিসেবে) বাধ্যতামূলক। অথচ ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের ক্ষেত্রে লাইসেন্স ইস্যুর সময় একক উড্ডয়ন ছিল মাত্র ৩৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে ইস্যুকৃত আরেকটি সনদে ১৫৫ ঘণ্টা দেখানো হলেও, তিনি প্রশিক্ষণে ধীরগতির কারণে বরখাস্ত হওয়ার পর এই সনদ দেওয়া হয় বলে তথ্য উঠে এসেছে।
একইভাবে ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান আখন্দ একক উড্ডয়ন করেছেন মাত্র ২৬ ঘণ্টা ৫ মিনিট, ক্যাপ্টেন আনিস আহমেদের মোট উড্ডয়ন দেখানো হয়েছে ১৬২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদের লগবুকে একই ফ্লাইট টাইম পি১ ও পি২ উভয় কলামে লিপিবদ্ধ করে কৃত্রিমভাবে ঘণ্টা বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
বিমানের প্রাথমিক তদন্ত কমিটি এসব অভিযোগকে ‘সংবেদনশীল’ বলে চিহ্নিত করে অভিযুক্তদের উড্ডয়ন থেকে সাময়িক বিরত রাখার সুপারিশ করলেও, তাদের বরখাস্ত করা হয়নি। বরং তারা এখনও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে যাচ্ছেন। সিএএবি তদন্ত চলমান বলে জানালেও, গঠিত কমিটির প্রতিবেদন এক মাসেরও বেশি সময় পরও প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযুক্ত পাইলটরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাব বলেন, “এগুলো পুরোপুরি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র।” বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের জালিয়াতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বিমান খাতের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। আইসিএও-এর মতো সংস্থার কঠোর পর্যবেক্ষণের মুখে পড়তে পারে দেশের আকাশপথ।
এ ঘটনায় বিমান ও সিএএবি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে যাত্রীদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।



