
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সঞ্চালনায় ছিলেন।
ইশতেহারে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ মূলনীতির আলোকে দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় এয়ার কানেক্টিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বিভাগীয় শহরগুলোকে আকাশপথে যুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ে এই সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। এজন্য ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট—কে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরিত করা হবে। এছাড়া কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী এবং সৈয়দপুরে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে জাতীয় লজিস্টিকস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে কার্গো ট্র্যাকিং, বুকিং ও রুট প্ল্যানিং সহজতর হবে। বিমানবন্দরগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হবে এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে।
বিএনপি টিকিট ব্ল্যাক মার্কেটিং, প্রতারণা ও অবৈধ তহবিল আত্মসাৎ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনে পরিণত করতে পরিচালনা কাঠামো, রুট ও সেবার মান উন্নয়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক রুট বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
এছাড়া এভিয়েশন প্রযুক্তি ও কার্গো খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং দেশের এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষ কর্মী তৈরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা পাঠ্যক্রমে এভিয়েশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তারেক রহমানের ভাষায়, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ১৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংযোগের নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে দলটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।



