
ফাইল ছবি
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটনের চেয়ে সংরক্ষণ এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্বীপটির অস্তিত্ব রক্ষায় পর্যটন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা ছাড়া বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) ব্যবসায়িক কৌশলগত সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্টমার্টিন বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের চাপে দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এই পরিস্থিতিতে পর্যটনকে প্রাধান্য দিলে দ্বীপকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই সরকারের মূল মনোযোগ এখন সংরক্ষণে।
তিনি জানান, সরকার একদিকে পর্যটন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—দ্বীপের মানুষ যেন জীবিকার জন্য প্রকৃতি ধ্বংসের দিকে না যায়, আবার পর্যটন বন্ধ হলেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
পরিবেশ উপদেষ্টার ভাষায়, “জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে হলে পর্যটন সীমিত করতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের পর্যটন ভাবনায় বড় রিসোর্ট বা অবকাঠামো নির্মাণের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং পর্যটকরা যদি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে থেকে দ্বীপের প্রকৃতি উপভোগ করেন, সেটিই হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মডেল।এতে স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে, আবার পরিবেশের ওপর চাপও কমবে।
সেন্টমার্টিনকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে বলেও জানান উপদেষ্টা। এই মাস্টারপ্ল্যানে দ্বীপের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বসবাসযোগ্যতা এবং সীমিত পর্যটন ব্যবস্থাপনার দিকগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আশ্বাস দেন, খুব শিগগিরই মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি দ্বীপের প্রাণিকুল নিয়েও কথা বলেন। সেন্টমার্টিনে পশুপাখি অবহেলিত বা অনাহারে আছে—এমন ধারণাকে নাকচ করে তিনি বলেন, সেখানে কোনো কুকুর অনাহারে নেই বা অপুষ্টিতে ভুগছে না। তবে সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য ঠিক রাখতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা জরুরি।
সব মিলিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—সেন্টমার্টিনে পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ নয়, কিন্তু তা হবে নিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটাই, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে



