
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : দীর্ঘ ৫৫ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ফেরার পথে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা–করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। এই অনুমোদনের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত, যা পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে কার্যকর থাকবে।
পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ) ফেডারেল সরকারের সম্মতির পর বিমানকে এই রুটে উড্ডয়নের ছাড়পত্র দেয়। সিএএ-এর মহাপরিচালকের স্বাক্ষরে অনুমোদন জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তিন মাসের এই ট্রায়াল পিরিয়ডে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট কতটা কার্যকর ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই—তা মূল্যায়ন করা হবে। যাত্রী চাহিদা, পরিচালন দক্ষতা এবং আর্থিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এই রুট স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
অনুমোদনের অংশ হিসেবে বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত এয়ার রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা মেনে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে করাচি বিমানবন্দরে বিমানের জন্য স্লট বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিএএ-এর শর্ত অনুযায়ী, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ ফ্লাইট বিবরণ সরবরাহ করতে হবে। এতে ফ্লাইট সময়সূচি, ক্রু, যাত্রী সংখ্যা ও অন্যান্য কারিগরি তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। মাঝখানে কয়েক দশক ধরে যাত্রীদের তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হয়েছে। বর্তমান অনুমোদনকে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে, মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে এবং সরকারিভাবে পারস্পরিক সম্পৃক্ততাও জোরদার হবে। পাশাপাশি উভয় দেশের বিমান চলাচল খাত নতুন গতি পাবে।
বিমান শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরীক্ষামূলক সময়কাল সফল হলে ঢাকা–করাচির বাইরেও অন্যান্য রুটে দ্বিপাক্ষিক বিমান সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় ফেডারেল সরকারের সম্মতির মাধ্যমে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়া। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের সময় কমবে, খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে—যা দুই দেশের সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর।



