
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশপথে এক রাতেই বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দৃশ্যমানতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে ভারতের কলকাতায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টার পর থেকেই রানওয়ের দৃশ্যমানতা দ্রুত কমতে শুরু করে। ভোর ৬টা পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকে। নির্ধারিত মানের নিচে দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে অবতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। ফলে একের পর এক ঢাকাগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘুরিয়ে দেওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, জাজিরা এয়ারওয়েজ পরিচালিত দুটি ফ্লাইট এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নির্ধারিত ফ্লাইট। এছাড়া সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আরও একটি ফ্লাইট ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দৃশ্যমানতার অবনতির কারণে কলকাতায় অবতরণ করে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানানো হয়েছে।
শুধু ফ্লাইট ডাইভারশন নয়, একই সময়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। বিলম্বের তালিকায় ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী একটি ফ্লাইট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়ালালামপুর ও গুয়াংজু থেকে আগত ফ্লাইট, এয়ার এরাবিয়ার শারজাহ থেকে পরিচালিত ফ্লাইট এবং সালামএয়ারের মাস্কাটগামী পরিষেবা। অনেক যাত্রী বিমানেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, আবার কেউ কেউ টার্মিনালে আটকে পড়েন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনুমোদিত সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় কিছু ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তাই এখানে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই ধাপে ধাপে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শীত মৌসুমের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে এবং কিছু কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু আকাশপথ নয়, সড়ক ও নৌপথ চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতিও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে ঘন কুয়াশা বাংলাদেশের বিমান চলাচলের জন্য একটি পরিচিত চ্যালেঞ্জ। আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সীমার নিচে দৃশ্যমানতা নেমে গেলে ফ্লাইট পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই এমন পরিস্থিতিতে ডাইভারশন বা বিলম্ব অনিবার্য হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে, ঘন কুয়াশার এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো আবহাওয়ার ওপর বিমান চলাচলের নির্ভরতা কতটা গভীর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কিছুটা ধৈর্য ধরার পাশাপাশি এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।



