
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : আফ্রিকার দক্ষিণ অংশের মনোরম দেশ জিম্বাবুয়ে এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে নতুন আকর্ষণ। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, আফ্রিকান সাফারি আর পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশটি ঘুরে দেখার ইচ্ছা অনেকেরই। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সেখানে যেতে হলে আগে থেকে ভিসা নিতে হয়। নিচে পুরো প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
ভিসার ধরন ও আবেদন পদ্ধতি
বাংলাদেশি নাগরিকদের জিম্বাবুয়ে প্রবেশের জন্য ই-ভিসা (e-Visa) নিতে হয়, কারণ বাংলাদেশ “ক্যাটাগরি সি” তে অন্তর্ভুক্ত—মানে যাত্রার আগে ভিসা অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
অনলাইন আবেদন করা যায় জিম্বাবুয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে: evisa.gov.zw
সাধারণত বাংলাদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা (Visa on Arrival) সুবিধা নেই, তাই ভ্রমণের আগে অনলাইনে আবেদন করাই নিরাপদ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ই-ভিসা আবেদন করার সময় নিচের কাগজপত্রগুলো লাগবে:
১. বৈধ পাসপোর্ট – অন্তত ছয় মাসের মেয়াদ থাকতে হবে।
২. পাসপোর্টের স্ক্যান কপি – তথ্য পাতার পরিষ্কার কপি।
৩. পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি – সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা সাম্প্রতিক ছবি।
৪. বিমান টিকিট রিজার্ভেশন – যাওয়া ও ফেরার টিকিটের কপি।
৫. থাকার প্রমাণ – হোটেল বুকিং বা স্থানীয় বাসস্থানের ঠিকানা।
৬. ব্যাংক স্টেটমেন্ট – সাম্প্রতিক তিন মাসের, যাতে আর্থিক সক্ষমতা বোঝা যায়।
৭. কভার লেটার – ভ্রমণের উদ্দেশ্য, সময়কাল ও পরিকল্পনা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে।
ভিসা ফি ও প্রসেসিং সময়
| ভিসার ধরন | ফি | প্রসেসিং সময় |
|---|---|---|
| একবার প্রবেশ (Single Entry) | প্রায় ৩০ মার্কিন ডলার | প্রায় ৫ থেকে ৬ কার্যদিবস |
| দুইবার প্রবেশ (Double Entry) | প্রায় ৪৫ মার্কিন ডলার | প্রায় ৫ থেকে ৬ কার্যদিবস |
অনলাইন আবেদন করলে ফি কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। অনুমোদন পাওয়া গেলে ই-মেইলে একটি পিডিএফ ফরম্যাটের “ই-ভিসা অনুমোদন পত্র” পাঠানো হয়, যা প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে হয়।
দূতাবাস ও যোগাযোগ কেন্দ্র
বাংলাদেশে বর্তমানে জিম্বাবুয়ের কোনো দূতাবাস নেই।
তবে আপনি চাইলে অনলাইনে সরাসরি আবেদন করতে পারেন সরকারি ওয়েবসাইটে:
👉 https://evisa.gov.zw
অথবা প্রয়োজনে কাছের অঞ্চলে অবস্থিত জিম্বাবুয়ে দূতাবাস (যেমন ভারত বা দক্ষিণ আফ্রিকায়) যোগাযোগ করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও পরামর্শ
- সব কাগজপত্র ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে জমা দিন।
- আবেদন করার সময় পাসপোর্টে অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা রাখুন।
- আবেদন ভ্রমণের তারিখের কমপক্ষে ১০ দিন আগে করে ফেলুন।
- অনুমোদন ই-মেইলে পেলে তা প্রিন্ট করে রাখুন এবং সীমান্তে দেখান।
- যাত্রার আগে জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য দেখে নিন।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জিম্বাবুয়ে ভিসা প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ।
শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই হয়, কোনো দূতাবাসে যেতে হয় না।
ভিসা ফি প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মার্কিন ডলার, আর প্রসেসিং সময় সাধারণত ৫ থেকে ৬ কার্যদিবস।
সঠিক কাগজপত্র ও সময়মতো আবেদন করলে ভ্রমণ অনুমোদন পাওয়া যায় খুব সহজে।
জিম্বাবুয়ে ঘুরতে গেলে আফ্রিকার বন্যপ্রাণী, ঐতিহাসিক স্থাপনা, আর প্রকৃতির সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। সঠিক প্রস্তুতি আর কিছুটা ধৈর্য থাকলেই এই আফ্রিকান দেশ আপনাকে দেবে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।



