কক্সবাজার: বাংলাদেশের পর্যটনের প্রধান বিজ্ঞাপন 

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশে ভ্রমণের জায়গা নিয়ে আলোচনা উঠলে সবার আগে চোখে পড়ে কক্সবাজারের নাম। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, যা বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরের নীল জলের সঙ্গে যেন মিশে গেছে। উত্তাল ঢেউয়ে সাঁতার কাটা, বালুকারাশিতে হাঁটা কিংবা সূর্যের আলোয় ভিজে থাকা—সব মিলিয়ে এই সৈকত এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। শুধু সৈকতই নয়, পাহাড়, ঝরনা আর বৌদ্ধ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় কক্সবাজার হয়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন নগরী। শান্ত পরিবেশ, শীতল বাতাস আর প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগই পর্যটকদের এখানে টেনে আনে সারা বছরজুড়ে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের অভিজ্ঞতা

কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাকৃতিক বালুকাময় সৈকত। ভোরবেলায় সূর্যোদয় দেখা কিংবা বিকেলের লালিমায় সূর্যাস্ত উপভোগ করার মতো দৃশ্য ভ্রমণকারীদের জন্য এক অসাধারণ অনুভূতি। এখানে নিরিবিলি বসে থাকলেই শহুরে ক্লান্তি মিলিয়ে যায়।

হিমছড়ি ঝরনা ও পাহাড়ের শোভা

কক্সবাজার থেকে অল্প দূরেই হিমছড়ি। বর্ষার সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার শব্দ আর সবুজ পাহাড়ি দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয়। পাহাড়ি পথে উঠে দাঁড়ালে সমুদ্র ও সবুজের অপূর্ব মেলবন্ধন চোখে পড়ে। প্রকৃতির টানে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য হিমছড়ি নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ গন্তব্য।

ইনানী সৈকতের নির্জনতা

প্রবাল আর বালুর মিশ্রণে তৈরি ইনানী সৈকত শান্ত পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। এখানে সমুদ্রের পানি তুলনামূলক পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। সৈকতের পাথরগুলো একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। যারা ভিড় থেকে দূরে শান্ত সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য ইনানী সৈকত উপযুক্ত জায়গা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের নীল সৌন্দর্য

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণকারীদের জন্য ভিন্ন রকম আনন্দ নিয়ে আসে। নৌকায় যাত্রার পর দ্বীপের চারপাশ ঘুরে দেখা, প্রবাল উপভোগ করা বা স্নরকেলিংয়ের মাধ্যমে পানির নিচের জগৎ দেখা এখানে অন্যতম আকর্ষণ।

রামুর বৌদ্ধ ঐতিহ্য

কক্সবাজারের রামুতে রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধমন্দির। পাহাড়ের ওপর নির্মিত এসব মন্দিরে বিশাল বুদ্ধমূর্তি আর ধর্মীয় প্রতীক দেখা যায়। এ স্থান শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, স্থাপত্যশৈলীর জন্যও পর্যটকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

সোনাদিয়া দ্বীপের নিরিবিলি প্রকৃতি

সোনাদিয়া দ্বীপে জনবসতি নেই বললেই চলে। প্রকৃতির কোলঘেঁষা নির্জনতা, বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা আর ঢেউয়ের শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

থাকার ব্যবস্থা

কক্সবাজারে পাঁচ তারকা হোটেল থেকে শুরু করে বাজেট হোটেল সবই আছে। বাজেট হোটেলে প্রতি রাতে খরচ ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। মিড-রেঞ্জ হোটেল পাওয়া যায় আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। আর বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টে খরচ পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচশত হোটেল-মোটেল চালু আছে, যেগুলোতে একসাথে লাখের বেশি পর্যটক থাকতে পারেন।

পর্যটন খাতের ব্যবসা

কক্সবাজারের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, সৈকতকেন্দ্রিক সেবা, স্থানীয় দোকানপাট ও পরিবহন—এসব খাত মিলিয়ে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় বলে ধারণা করা হয়।

পরিবেশবান্ধব পর্যটন

অতিরিক্ত নির্মাণ আর পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তবে আশার আলো জ্বলছে ইকো ট্যুরিজমে। বাঁশ, কাঠ আর প্রাকৃতিক উপাদানে নির্মিত ইকো রিসোর্টগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পর্যটনকে এগিয়ে নিচ্ছে। এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আলাদাভাবে করা হয় যাতে প্রকৃতির ক্ষতি না হয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টেকসই পর্যটনের জন্য এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি।

Read Previous

পেনাংয়ের কেক লোক সি মন্দির: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অপার সৌন্দর্যের এক মহাধাম

Read Next

ধামরাইয়ের বনিকবাড়ির শতবর্ষী দুর্গাপূজা, দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় আয়োজন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular