
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকদের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। এতে করে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট আয়োজন সম্ভব হবে।
সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট বা আওয়ামীর দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনা যেমন প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে দেননি, আমরাও সেই ভুল করব না। মানুষ এত রক্ত দিয়েছে, এত প্রাণহানি ঘটেছে—তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা প্রবল। তবে সেটিকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেতে দিতে হবে।”
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বার্তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যদি ভোট না হয়, তবে মার্চ থেকে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠবে। তাই নির্বাচনকে সামনে এগিয়ে নেওয়া জরুরি।
ভারতের প্রভাব প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব থাকবেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেমন সহযোগিতা করেছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে সমস্যা হলো, ভারত কেবল আওয়ামী লীগকেই বাংলাদেশ হিসেবে দেখেছে। “জামায়াত আর বিএনপির রাজনীতি এক নয়। আমরা অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী একটি গণতান্ত্রিক দল। মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান রক্ষায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি,”—যোগ করেন তিনি।
জামায়াতকে আর সুবিধা না দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা নির্বাচনি শরিক ছাড়া আর কিছু নয়। আওয়ামীর অপপ্রচারেই ভারত আমাদের সঙ্গে জামায়াতকে এক করে দেখছে। বিএনপি জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবে না।”
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই ভারত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুক। আবারও বই কিনতে কলেজ স্ট্রিটে যাব, সিনেমা-থিয়েটার দেখব, মানুষে মানুষে অবাধ যোগাযোগ হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে। ভারতীয়রাও বাংলাদেশে আসুক, ভুল বোঝাবুঝি দূর হোক।”
মূল বক্তব্যে, মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিসহ সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।



