
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: লাংকাওয়ে গেলে যে স্থানটি একেবারেই মিস করা চলে না, সেটি হলো কিলিম কার্স্ট জিওফরেস্ট পার্ক। এটি মালয়েশিয়ার লাংকাওয়ের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব জিওপার্কের অন্যতম আকর্ষণ। নদী, পাহাড়, ম্যাঙ্গ্রোভ বন আর গুহার এক অনন্য মেলবন্ধন এই পার্ককে বিশ্বের অন্যতম বিশেষ পর্যটনকেন্দ্র করে তুলেছে।
ইতিহাস ও ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব
কিলিম কার্স্ট অঞ্চলের চুনাপাথরের পাহাড়গুলোর বয়স প্রায় ৪৯০ মিলিয়ন বছর। এত প্রাচীন শিলা ও ভূতাত্ত্বিক নিদর্শন এশিয়ার অন্য কোথাও খুব কমই পাওয়া যায়। ২০০৭ সালে লাংকাওয়ি জিওপার্ক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং শিক্ষামূলক দিক থেকেও এ স্থান পৃথিবীর গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক বিশাল ভাণ্ডার।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
এ পার্ক মূলত ম্যাঙ্গ্রোভ বন, নদীর মোহনা ও কার্স্ট চুনাপাথরের পাহাড় ঘিরে গড়ে উঠেছে।
- ম্যাঙ্গ্রোভ বন ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে দ্বীপকে রক্ষা করে, আবার একইসঙ্গে শত শত পাখি, বানর, বাদুড় ও সরীসৃপের আবাস।
- গুহা ভ্রমণ এখানে আলাদা আকর্ষণ—‘Bat Cave’ আর ‘Crocodile Cave’ সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- নদীতে বোটে ঘুরতে ঘুরতে পর্যটকরা প্রায়ই দেখতে পান আকাশে চক্কর দেওয়া ঈগল কিংবা জলে ভেসে থাকা মনিটর লিজার্ড।
- নদীর মোহনা পেরিয়ে খোলা সাগরে প্রবেশ করার অভিজ্ঞতাও রোমাঞ্চকর।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবন
পার্ক ঘিরে থাকা গ্রামগুলোর মানুষ মূলত মাছ ধরা ও নৌকা চালানোর সঙ্গে যুক্ত। পর্যটন বিকাশের পর স্থানীয়রা গাইড, নৌকাচালক ও ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ভ্রমণকারীরা এখানে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন, বিশেষত তাজা সামুদ্রিক মাছের পদ।
ভ্রমণ খরচ ও বুকিং তথ্য
- গ্রুপ বোট ট্যুর: জনপ্রতি ৫০–১৫০ রিঙ্গিত (প্রায় ১২০০–৩৫০০ টাকা)
- প্রাইভেট বোট ট্যুর: ২০০–৪০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি
- প্রবেশ ফি: আলাদা টিকিট নেই, ট্যুর ফিতেই সব অন্তর্ভুক্ত
- খাবার: ফ্লোটিং রেস্টুরেন্টে জনপ্রতি প্রায় ৩০–৪০ রিঙ্গিত
- সময়: সাধারণত ৩–৫ ঘণ্টার ট্যুর; চাইলে পূর্ণদিবস ট্যুরও নেওয়া যায়
যাতায়াত ব্যবস্থা
কিলিম জিওফরেস্টে প্রবেশের মূল গেট হলো Kilim Jetty। লাংকাওয়ের জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত Pantai Cenang বা শহরের কেন্দ্র থেকে ট্যাক্সি বা Grab ব্যবহার করে ৩০–৬০ মিনিটেই এখানে পৌঁছানো যায়। পার্কে ঢুকতে হলে অবশ্যই নৌকায় উঠতে হবে।
ভ্রমণ পরামর্শ
- সানস্ক্রিন, টুপি, সানগ্লাস, মশার ওষুধ নিতে ভুলবেন না
- পানি ও ক্যামেরা জলরোধী ব্যাগে রাখুন
- বানর বা বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি সাবধান থাকুন
- দুপুরের গরম এড়িয়ে সকালে বা বিকেলে যাওয়া উত্তম
কিলিম কার্স্ট জিওফরেস্ট পার্ক কেবল একটি ভ্রমণস্থান নয়, বরং প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত পাঠশালা। এখানে ভ্রমণ মানে একদিকে প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখা, অন্যদিকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে সময় কাটানো। যারা লাংকাওয়ে ঘুরতে যাবেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই ভ্রমণতালিকার শীর্ষে থাকা উচিত।



