
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় স্থানীয় জনতার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আবারও বন্ধ রয়েছে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। বুধবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার সড়ক জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং পূর্বের অবস্থায় ফেরানোর দাবি করছেন। এ সময় পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস আটকে থাকতে দেখা গেছে।
এর আগে শুক্রবার ও মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ভাঙ্গা গোলচত্বরসহ দুটি মহাসড়ক অবরোধ হয়। ওই সময় জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নয়টি স্থানে স্থানীয়রা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে এবং বাঁশের ব্যারিকেড স্থাপন করে বিক্ষোভ দেখান। এতে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সকল যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ৪৬টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তনসহ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী ফরিদপুরের দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪-এর ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন নগরকান্দা উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনের অংশ।
এই ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধ করে তাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আজও সকাল ৯টা থেকে পুনরায় অবরোধ শুরু হওয়ায় দুটি মহাসড়কের চারটি প্রবেশদ্বারে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।
পর্যটক ও যাত্রীদের জন্য এ সময় মহাসড়কে চলাচল বেশ বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মহাসড়কে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।



