কুয়াকাটায় ডলফিনের মৃত্যু থামছেই না, ৮ বছরে ভেসে এসেছে ১৩২ মৃত ডলফিন

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলজুড়ে ডলফিনের মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত আট বছরে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অন্তত ১৩২টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটিরও ময়নাতদন্ত হয়নি, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বের করা যায়নি।

ডলফিন মানেই সমুদ্রের স্বাস্থ্য

ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ডলফিনের মৃত্যু আসলে সমুদ্রের অসুস্থ হয়ে পড়ার লক্ষণ। তার ভাষায়, “মানুষ যেমন শরীরে জ্বর এলে বোঝা যায় রোগ হয়েছে, তেমনি ডলফিন মারা যাওয়া মানে সমুদ্র বিপদ সংকেত দিচ্ছে। ডলফিন না থাকলে শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, অর্থনীতি ও জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

জেলেদের দাবি

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, বড় সামুদ্রিক জাহাজের ধাক্কা, কারেন্ট জাল এবং অবৈধ টোন জালের ফাঁদে পড়েই ডলফিন মারা যাচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণার তাগিদ

গবেষকরা মনে করেন, সঠিক কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ফরেনসিক পরীক্ষা জরুরি। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক বলেন, “ডলফিন শ্বাসরোধ হয়ে মারা যেতে পারে জালে আটকে, আবার দূষণ ও জাহাজের ধাক্কাও কারণ হতে পারে। ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।”

জেলা বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত সুরতহাল রিপোর্টে দেখা গেছে বেশিরভাগ মৃত ডলফিন ছিল বয়স্ক। তবে বৈজ্ঞানিক ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের হুমকি

সাম্প্রতিক গবেষণায় উপকূলীয় পানিতে শনাক্ত হয়েছে ১৭৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক। গভীর সমুদ্রের তুলনায় কুয়াকাটার ডলফিনের শরীরে এগুলোর উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। পরিবেশবিদদের মতে, এটাই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।

অভয়ারণ্যের দাবি

পরিবেশবিদরা বলছেন, এখনই ডলফিনের জন্য কুয়াকাটায় একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে না তুললে অদূর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর থেকে বিলীন হয়ে যাবে এই সামুদ্রিক প্রাণী।

Read Previous

আদাবরে কিশোর গ্যাং সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত, আটক ১০২

Read Next

পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুক্তি পেল প্রামাণ্যচিত্র ‘৩৬ আওয়ার্স অব বিট্রেয়াল’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular