
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী অ্যানুরাধাপুরা এখনো হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে শুরু করে প্রায় তেরশো বছর এই নগরী দ্বীপের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম পবিত্র তীর্থভূমি।
কী কী দেখা যাবে
অ্যানুরাধাপুরার প্রতিটি কোণেই ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
- শ্রী মহাবোধি বৃক্ষ: বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন রোপিত বৃক্ষ, যা বুদ্ধগয়া থেকে আনা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে।
- রুয়ানওয়েলিসায়া স্তূপ: বিশাল সাদা গম্বুজ, ভক্তদের জন্য অন্যতম পূণ্যস্থান।
- অভয়গিরি মঠ: যেখানে একসময় প্রায় পাঁচ হাজার ভিক্ষু বসবাস করতেন।
- জেটাভানারামায়া স্তূপ: উচ্চতা প্রায় একশো বাইশ মিটার, প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা।
- লঙ্কারামায়া ও মিরিসাওয়েতি স্তূপ: ছোট হলেও শিল্পকলা ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন।
- রাজকীয় উদ্যান: প্রাচীন সেচব্যবস্থা, জলাধার ও বাগান এখনো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ভ্রমণে করণীয়
পর্যটকরা চাইলে সাইকেল ভাড়া নিয়ে সহজেই পুরো অ্যানুরাধাপুরা ঘুরে দেখতে পারেন। সকালে বা বিকেলে ঘোরা উত্তম, দুপুরে প্রচণ্ড গরম থাকে। স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিলে প্রতিটি স্থাপনার ইতিহাস ও তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হবে।
ভ্রমণের সেরা সময়
ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই সময় অ্যানুরাধাপুরা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আবহাওয়া ঠান্ডা ও শুষ্ক থাকে।
যাওয়া-আসা
কলম্বো থেকে অ্যানুরাধাপুরার দূরত্ব প্রায় দুইশো কিলোমিটার। ট্রেনে গেলে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা, আর গাড়িতে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। বাস সার্ভিসও নিয়মিত চলাচল করে।
থাকা-খাওয়া
এলাকাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। বাজেট হোটেলের ভাড়া শুরু হয় প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ ডলার, মাঝারি মানের হোটেল পঞ্চাশ থেকে সত্তর ডলার আর বিলাসবহুল হোটেল একশো ডলারের ওপরে।
স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ভাত-কারি, হপ্পারস ও নারকেলভিত্তিক খাবার ভ্রমণকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
আনুমানিক খরচ
- প্রবেশ ফি: বিদেশি পর্যটকদের জন্য একত্রিত টিকিট প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ ডলার।
- সাইকেল ভাড়া: প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ ডলার।
ভ্রমণ টিপস
- মন্দির এলাকায় প্রবেশের আগে জুতো খুলতে হয়, পোশাক হতে হবে পরিমিত।
- রোদ থেকে বাঁচতে টুপি, সানস্ক্রিন ও পানির বোতল সঙ্গে রাখা ভালো।
- ছবি তোলার সময় ধর্মীয় স্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
অ্যানুরাধাপুরা শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, বরং ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতির জীবন্ত জাদুঘর। এখানে একদিন কাটালেই বোঝা যায় প্রাচীন শ্রীলঙ্কার মহিমা কতটা সমৃদ্ধ ছিল।



