ভরা মৌসুমেও পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের হাহাকার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি | পর্যটন সংবাদ: ভরা মৌসুমেও পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন-রাত জাল ফেলেও জেলেদের খরচ উঠছে না, ফলে দাদনের ঋণ আর সংসারের টানাপোড়েনে দিশেহারা তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার স্রোতে টইটম্বুর নদীজুড়ে জেলেদের আনাগোনা। কিন্তু পরিশ্রমের ফল প্রায় শূন্য। একেকটি নৌকায় ৮ থেকে ১০ জন জেলে ১০-১২ ঘণ্টা জাল ফেলে আনছেন মাত্র ৪-৫টি ইলিশ। এতে জ্বালানি খরচই মেটানো যাচ্ছে না।

আড়তগুলোতেও নেই সেই আগের ভিড়। আগে যে ইলিশ কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেই একই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কিন্তু সরবরাহ এত কম যে বেচাকেনাই জমছে না।

ভেদরগঞ্জের জেলে ইকবাল হোসেন বলেন, “ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচজন মিলে ধরতে পেরেছি মাত্র পাঁচটি ইলিশ। বিক্রি করেছি ১ হাজার ১০০ টাকায়। খরচও উঠেনি। বাড়িতে চাল-ডাল কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নদীতে চর জেগে ওঠা, পানি দূষণ, নাব্যতা সংকট, অবৈধ জাল ব্যবহার ও অতিরিক্ত মাছ ধরা।

মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, “আমরা আশাবাদী সংরক্ষণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ আসবে। তবে পরিবেশগত নানা কারণে উৎপাদন কমেছে, যার প্রভাব পড়ছে সরাসরি জেলেদের জীবিকায়।”

এ অবস্থায় নদীপাড়ের পরিবারগুলো টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে। অনেক জেলে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন, আড়তগুলোও টিকে থাকার সংকটে পড়েছে।


চাও কি আমি এটাকে আরও ছোট করে (সংক্ষিপ্ত নিউজ ফরম্যাটে) বানিয়ে দিই, নাকি বিস্তারিত ফিচার আকারে রেখে দেব?

Read Previous

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খুলে মিলল ৩২ বস্তা টাকা

Read Next

আকাশে ঝুঁকিপূর্ণ ঝাঁকুনি, স্কাইওয়েস্ট বিমানে আতঙ্ক—আহত ২ যাত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular