
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: গোমতী নদীকে ঘিরে কুমিল্লায় পর্যটনের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ৫০৮টি অবৈধ স্থাপনা আগামী ছয় মাসের মধ্যে উচ্ছেদে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, যা নদীটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নৌপথকে ফিরিয়ে এনে পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে।
রোববার (৩ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোমতী নদী পুনর্দখল বা মাটি ভরাট রোধে স্থানীয় পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০১১ সালে জনস্বার্থে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গোমতী নদী দখলের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
জানা গেছে, নদীর সীমানা নির্ধারণ ও জরিপের মাধ্যমে মোট ৬২৩টি অবৈধ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২৬৫টি ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০৮টি স্থাপনা এখন চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদের অপেক্ষায়।
পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, গোমতী নদীর আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব কুমিল্লায় নৌভ্রমণ ও প্রাকৃতিক ভ্রমণের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ ফিরে এলে সেখানে নৌকাবিহার, ঘাট নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আগামী তিন মাসের মধ্যে নদী ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে আদালত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার গোমতী নদী শুধু নদীই নয়, পর্যটকদের জন্য একটি প্রাকৃতিক স্বর্গ হয়ে উঠতে পারে — এমন আশাই করছেন স্থানীয়রা।
-পর্যটন সংবাদ প্রতিনিধি, কুমিল্লা



