
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: প্রযুক্তি জগতে অন্যতম বড় নাম অ্যাপল এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, এআই খাতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে অ্যাপল ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
গুগল ও মাইক্রোসফট ইতিমধ্যে এআই প্রযুক্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে নিজেদের চ্যাটবট, ভার্চ্যুয়াল সহকারী ও ডেটা সেন্টারকে উন্নত করেছে। মাইক্রোসফট যেখানে ১০০ বিলিয়ন ডলার ও গুগল ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘোষণা করেছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে অ্যাপল।
তবে এখন অ্যাপলও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে আগ্রহী। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের ডেটা সেন্টার নির্মাণ বা বড় কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে।
টিম কুক জানিয়েছেন, চলতি বছরেই অ্যাপল সাতটি ছোট প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজনে আরও বড় চুক্তি করতেও তারা প্রস্তুত। যদিও এত দিন অ্যাপল মিতব্যয়ী নীতিতে অটল থেকেছে এবং ২০১৪ সালের বিটস ইলেকট্রনিকস (৩ বিলিয়ন ডলার) ও ২০১৯ সালের ইন্টেলের মডেম ব্যবসা (১ বিলিয়ন ডলার) অধিগ্রহণ ছিল তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
বর্তমানে অ্যাপল ওপেনএআই-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কিছু এআই সুবিধা ব্যবহার করছে এবং আইফোনে এআই ফিচার যুক্ত করছে। তবে নিজেদের ভার্চ্যুয়াল সহকারী ‘সিরি’-র উন্নত সংস্করণ এখনো বাজারে আনতে পারেনি। বরং তা ২০২৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে।
অ্যাপলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কেভান পারেখও নিশ্চিত করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় খরচ বাড়াতে প্রস্তুত তারা। যদিও নির্দিষ্ট করে কোনো অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি, তবে এই অবস্থান স্পষ্ট যে অ্যাপল এআই খাতে এবার বাজে না রেখে এগিয়ে যেতে চায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি অ্যাপলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এআই প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ছাড়া ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অ্যাপলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



