
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক :শান্তিনিকেতন, বীরভূম — বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনে এবার পর্যটকদের জন্য নতুন করে উন্মুক্ত হচ্ছে ইতিহাসের পথ। শান্তিনিকেতন কর্তৃপক্ষ ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর আয়োজন করছে, যা প্রতি রোববার অনুষ্ঠিত হবে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই উদ্যোগকে পর্যটনের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেরিটেজ ওয়াকের জন্য নির্ধারিত গাইড থাকবেন, যারা বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় পর্যটকদের শান্তিনিকেতনের ইতিহাস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও দর্শনের নানা দিক তুলে ধরবেন। পর্যটকদের জন্য তিনটি ভাষায় প্রস্তুত করা হচ্ছে তথ্যবহুল লিফলেট, যাতে ঐতিহাসিক স্থানগুলোর বিবরণ থাকবে।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক প্রবীর কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এই শান্তিনিকেতনকে আরও নিবিড়ভাবে জানার সুযোগ করে দিতেই এই হেরিটেজ ওয়াক চালু করা হচ্ছে। আমরা ইউনেস্কোর নির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছি।”
হেরিটেজ ওয়াকের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা থেকে শুরু করে চৈত্যবাড়ি হয়ে ছাতিমতলা পর্যন্ত। এই পথে তৈরি হচ্ছে নতুন রাস্তা, যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে হেঁটে দেখতে পারেন শান্তিনিকেতনের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থানগুলি।
করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এবার পর্যটকদের জন্য বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসও খুলে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হেরিটেজ ওয়াকে অংশ নিতে টিকিট কাটতে হবে, তবে এখনো টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
পর্যটনপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক আনন্দদায়ক সংবাদ। শুধু বাংলার নয়, দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এবার রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনকে অনুভব করতে পারবেন আরও গভীরভাবে, ইতিহাসের পথে হাঁটতে
হ্যারিয়েজ ওয়াক সংক্রান্ত তথ্য, সময়সূচি ও টিকিটের বিস্তারিত জানতে পর্যটকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বিশ্বভারতীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।



