
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত কুকিল পেয়ারি জমিদার বাড়ি ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। রাজধানী থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি এখন পর্যটকদের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নবাবগঞ্জের সীমানায় প্রবেশ করলেই অতীতের গৌরবময় দিনগুলোর স্মৃতি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
জমিদার কুকিল চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী পেয়ারি সুন্দরীর নামানুসারে এই জমিদার বাড়ির নামকরণ করা হয় “কুকিল পেয়ারি জমিদার বাড়ি”। ধারণা করা হয়, ১৮ শতকের শেষভাগে কিংবা ১৯ শতকের শুরুতে এই বাড়ি নির্মিত হয়। জমিদার পরিবারটি তৎকালীন সমাজে সংস্কৃতি, কৃষি ও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। তাঁদের জীবনধারা ও ঐতিহ্যের ছাপ আজও এই বাড়ির পরতে পরতে খুঁজে পাওয়া যায়।
বাড়িটির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত চমকপ্রদ। ইউরোপীয় ও বাংলার ঐতিহ্য মিশিয়ে নির্মিত এই বাড়িটির মূল ভবন দুই তলা বিশিষ্ট। প্রবেশমুখে রয়েছে বিশাল লোহার ফটক। ভেতরে রয়েছে খিলানযুক্ত বারান্দা, কারুকাজ করা জানালা ও সুদৃশ্য ছাদ। বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে একটি প্রাচীন বাগান, পুকুর, নাট্যমঞ্চ ও অতিথিশালা, যেগুলো একসময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতো।
এই বাড়িটির পরিবেশও অত্যন্ত মনোরম। বাড়ির চারপাশে রয়েছে শতবর্ষী গাছ, পুকুরঘাট, ফলজ বাগান ও খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে একদিন কাটালে প্রকৃতি ও ইতিহাস—দুইয়েরই অপূর্ব রূপ উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে সকালে কিংবা বিকেলে সূর্যের আলোয় জমিদার বাড়ির স্থাপত্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।
ঢাকার গাবতলী, মোহাম্মদপুর বা সাভার এলাকা থেকে বাসযোগে সহজেই নবাবগঞ্জ পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে সহজেই কুকিল পেয়ারি জমিদার বাড়ি যেতে পারবেন। বাসভাড়া ৬০-৮০ টাকার মধ্যে এবং অটো/রিকশা ভাড়া স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত হয়।
পর্যটকদের সুবিধার্থে উল্লেখ্য, বাড়িটি সাধারণত সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে যেহেতু এটি আংশিকভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন, তাই কিছু সময় আগে থেকে জানানো শ্রেয়। স্থানীয় গাইডদের সহায়তায় আপনি জমিদার পরিবারের ইতিহাস ও নানা গল্প জানতে পারবেন, যা ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।
এই বাড়ির আশেপাশে রয়েছে স্থানীয় বাজার, যেখানে দেশীয় খাবার—যেমন পাটিসাপটা, মুড়ি-মুড়কি, ঝালমুড়ি ইত্যাদি পাওয়া যায়। তাই আপনি চাইলে এখানে একটি দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
ইতিহাসপ্রেমী, আলোকচিত্রশিল্পী কিংবা ভ্রমণপিপাসু যে কেউ কুকিল পেয়ারি জমিদার বাড়িতে এসে মুগ্ধ হবেন। এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং অতীতকে ছুঁয়ে দেখার এক অনন্য সুযোগ। একদিনের স্বল্প খরচের ট্যুর হিসেবেও এটি হতে পারে চমৎকার একটি গন্তব্য।
কুকিল পেয়ারি জমিদার বাড়ি — যেখানে ইতিহাস ও প্রকৃতি হাত ধরাধরি করে অপেক্ষা করছে আপনার ভ্রমণের গল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য।



