
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | পর্যটন সংবাদ: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার শ্যামলবাজারের পান্ডারখাল বাঁধ একসময় ছিল সবুজ প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর আশ্রয়স্থল। চারপাশের গাছপালা আর মাঝখানে বইতে থাকা খালের ধারা মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছিল এক “মিনি পর্যটন স্পট”। শান্ত পরিবেশ, নীরব হাওয়ার পরশ, আর প্রকৃতির রঙে সাজানো এই বাঁধ একসময় শত শত দর্শনার্থীর প্রিয় গন্তব্য ছিল।
কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অতীত। ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁধের পুরনো রূপ, ম্লান হচ্ছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। স্থানীয়দের অভিযোগ—কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাঁধের আশপাশ দখল করে ইট, বালু আর পাথরের স্তুপ তৈরি করছেন। এতে শুধু বাঁধের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, মারা যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলোও।
পান্ডারখাল এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আমরা বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা এসে জরিমানা করলেও কিছুদিন পর আবার আগের মতোই অবস্থা হয়ে যায়। গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, বাঁধও ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয় পথচারী রুবেল হোসেনের মতে, বাঁধটি শুধু সৌন্দর্যের নয়, তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র পথও। তার ভাষায়, “এখানে যত্রতত্র ইট-বালু রাখায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।”
দোহালিয়া ইউনিয়নের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “আগে এখানে বন্ধুবান্ধব মিলে বিকেলে গল্প করতাম, ছবি তুলতাম। এখন চারপাশে শুধু ধুলো আর পাথর, বসার জায়গাও নেই।”
জানা যায়, ১৯৭৪ সালে দেখার হাওরসহ আশপাশের হাওরের ফসল রক্ষায় এই বাঁধটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে এটি স্থানীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে এখন সরকারি অর্থে নির্মিত বসার ছাউনি অবহেলায় পড়ে আছে, আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ইট-বালু-পাথরের কারণে পরিবেশ ও নিরাপত্তা দুইই হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে দেখা হয়েছে। বাঁধ দখল ও পরিবেশ নষ্টের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশা—প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শ্যামলবাজার পান্ডারখাল বাঁধের হারানো রূপ ফিরিয়ে আনবে। যাতে এটি আবারও হয়ে ওঠে দোয়ারাবাজারের মানুষের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলনস্থল এবং পর্যটনের সম্ভাবনাময় কেন্দ্র।



