পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, শুধু উত্তর কোরিয়াই নয়—রাশিয়া ও চীনও গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। যদিও দেশ দুটি প্রকাশ্যে এমন কিছু স্বীকার করছে না।
সিএবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ৬০ মিনিটস-এ উপস্থাপিকা নোরা ও’ডনেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই দাবি করেন। রোববার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “রাশিয়া পরীক্ষা চালাচ্ছে, চীনও চালাচ্ছে—কিন্তু তারা এসব নিয়ে কিছু বলে না।”
পারমাণবিক প্রতিযোগিতা নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগ
ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিষ্কার, তিনি মনে করেন পারমাণবিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অন্য দেশগুলো পরীক্ষা চালাচ্ছে। আমরাই একমাত্র দেশ যারা এই পরীক্ষা করি না। আমি চাই না যে আমরা একমাত্র দেশ হয়ে থাকি যারা পরীক্ষা চালায় না।”
তার মতে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে তা পরীক্ষা না করা বাস্তবসম্মত নয়। “আপনি অস্ত্র বানালেন, কিন্তু পরীক্ষা করলেন না— তাহলে জানবেন কীভাবে এটা কাজ করে?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, এবং চীন—তিন দেশই পরস্পরের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশ্য ও গোপন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ওয়াশিংটন বহু বছর ধরে রাশিয়া ও চীনের দিকে অভিযোগ তুলছে যে, তারা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তবে সরাসরি পরীক্ষার প্রমাণ এখনও প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
‘পৃথিবীকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও বড়াই করেন। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে বিশাল পারমাণবিক শক্তি আছে— যা আর কোনো দেশের নেই। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে, আর চীন অনেক পিছিয়ে। তবে পাঁচ বছরের মধ্যে তারা সমান পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত পারমাণবিক অস্ত্র আছে, যা পৃথিবীকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়ার মতো।”
এই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ের বিতর্ক
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বছরের বেশি সময় পর নতুন করে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সে সময় তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, “রাশিয়া ও চীন যদি গোপনে পরীক্ষা চালাতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন পারবে না?”
এই পদক্ষেপের ফলে তখন ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, তারা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি (CTBT) মেনে চলছে। চীনও একই কথা জানায়।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে বৈশ্বিক পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করে, তাহলে রাশিয়া ও চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে—ফলে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী ভারসাম্য ভেঙে পড়বে।
কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার কৌশলও হতে পারে। কারণ মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তি সবসময়ই ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু।
ট্রাম্পের দাবি সত্য হোক বা রাজনৈতিক চাল, বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়া ও চীন এখনো এই অভিযোগে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে স্পষ্ট একটাই—বিশ্ব আবারও পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ছায়ায় ঢুকে পড়ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন।



