
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: নদী, খাল ও সবুজ গাছের মেলবন্ধনে তৈরি পর্যটকদের নতুন ঠিকানা
পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহরটি বর্ষা মৌসুমে নতুন এক আকর্ষণ পেয়েছে। নগরের পাঠানপাড়ায় লালন শাহ মুক্তমঞ্চের নিচে খনন করা খাল এখন পর্যটকদের চোখে মিনি সুন্দরবনের মতো প্রতীয়মান হচ্ছে। বর্ষা শেষে পানি কমতে শুরু করলে খালের দুই পাড়ে লাগানো গাছের গোড়ায় দেখা দেয় নরম কাদা, আর খালের মাঝ দিয়ে বয়ে যায় ছোট ঢেউ—দেখতে যেন প্রকৃত সুন্দরবনের ছোট নদী।
খালের উত্তর পাড়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের লাগানো নান্দনিক বৃক্ষরাজি বর্ষার পানি ধরে রাখায় আরও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে। দক্ষিণ পাড়ের চরের গাছগুলোও এখন উঁচু হয়ে উঠেছে, যা খালটিকে আরও দর্শনীয় করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন দৃশ্য দেখা যায় যেন সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বন থেকে জোয়ারের পানি সরে যাওয়ার পরের চমকপ্রদ মুহূর্ত।
কলেজশিক্ষার্থী ঔড়ব বলেন, “এটা মিনি সুন্দরবন হয়ে গেছে। পানি কমছে, ঘাটে নরম কাদা—মনে হচ্ছে জোয়ারের পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক শফিকুল আলমও খালের নতুন রূপকে উৎসাহ দিয়ে দেখেছেন। তিনি বলেন, “এবার জায়গাটি সত্যিই ছোট্ট সুন্দরবনের মতো দেখাচ্ছে। বিকেলে প্রচুর মানুষ দেখতে আসে।”
বর্ষার সময় রাজশাহীর চৌদ্দপাই এলাকার মমতাজ বেগম তার মেয়েকে নিয়ে খালের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তিনি বলেন, “খালের দুই পাশে লাগানো গাছগুলো এমনভাবে বড় হয়েছে যে এক জায়গায় বসে সুন্দরবনের ফিল পাওয়া যায়। বড় নদী না দেখলেও ছোটখাট খাল আর সবুজ গাছ মিলিয়ে অনন্য অনুভূতি তৈরি হচ্ছে।”
রাজশাহী নগরবাসী এবং পর্যটকরা এখন নিয়মিত এই খালের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ছোট্ট ‘মিনি সুন্দরবন’ শহরের ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে দ্রুত পরিচিতি পাচ্ছে।



