২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটি ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের অভ্যর্থনায় পুরোপুরি প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটি এখন প্রকৃতির অপরূপ সাজে সেজেছে। গাছে গাছে ফুটে উঠেছে হরেক রঙের ফুল, স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে জঙ্গলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ, আর দূর থেকে ভেসে আসছে কোকিলের মধুর ডাক—এসব মিলে যেন মন ছুঁয়ে যায়। বসন্তের এই রূপের মাঝে আসন্ন ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে পর্যটকদের বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। হোটেল-মোটেল, পর্যটন কেন্দ্র, ঝুলন্ত সেতু, পার্ক এবং কাপ্তাই হ্রদের ট্যুরিস্ট বোট সবকিছু নতুন করে সাজানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবার লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে এই পাহাড়ি জেলা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতু এখন আর আগের মতো নেই। পুরো সেতুর পাটাতন রঙিন করে সাজানো হয়েছে, সিঁড়িগুলো মেরামত করে নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে। কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়। হোটেলের এসি, আইপিএস, জেনারেটরসহ সব যান্ত্রিক সরঞ্জাম নতুন করে মেরামত ও পরীক্ষা করা হয়েছে। কক্ষগুলোকে রঙিন করে সাজানো হয়েছে, বালিশের কভার, বিছানার চাদর সবকিছুতে নতুনের ছোঁয়া লেগেছে। পর্যটকদের যানবাহনের জন্য বিশেষ পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সেই নয়, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো পার্ক এবং রাঙামাটি পার্কেও একই চিত্র বিরাজ করছে। সবকিছু ঢেলে সাজানো হয়েছে যাতে পর্যটকরা সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ইউনিট ব্যবস্থাপক (উপ-ব্যবস্থাপক) আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে কোনো প্রস্তুতির কমতি রাখা হয়নি। সবকিছু নতুন করে সাজানো হয়েছে। পর্যটকরা যাতে আরামদায়ক ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি জানান, এবার কোনো বিশেষ অফার বা ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

হোটেল-মোটেল ছাড়াও কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট বোটগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত। পর্যটন নৌ-যান ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট ব্যবস্থাপক মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে প্রায় ১০০টি ট্যুরিস্ট বোট রয়েছে। সবগুলো মেরামত করে রঙিন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। পর্যটক এলে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।” কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলরাশি, চারপাশের সবুজ পাহাড় আর বোট ভ্রমণের আনন্দ পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

অন্যদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশও প্রস্তুত। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল রকিব বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে।” এছাড়া শূন্য হ্রদ, পাহাড়ি এলাকাসহ সব দর্শনীয় স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, রাজবন বিহার, বড়গাঙ, সুবলং ঝর্ণা, আরণ্যক হ্যাপি আইল্যান্ডসহ নানা স্পট পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঈদের টানা ছুটিতে এসব স্থানে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে প্রত্যাশা। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদে পর্যটকের সমাগমে ব্যবসা-বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠবে।
পাহাড়, হ্রদ আর সবুজের সমারোহে ঘেরা রাঙামাটি প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য হয়ে ওঠে।এবারও প্রকৃতির রূপে সেজে, সবকিছু নতুন করে সাজিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এই পাহাড়ি শহর। যারা প্রকৃতি ও শান্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়তে চান, তাদের জন্য রাঙামাটি এখন আদর্শ গন্তব্য। ঈদের এই ছুটিতে পাহাড়ের কোলে কাটানো কয়েকটা দিন নিশ্চয়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রতিবেদক : ইসলাম রাইসুল

Read Previous

সবার পাশে আমরা ফাউন্ডেশন: অসহায়দের মুখে ঈদের হাসি ফোটানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা

Read Next

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular